বাগেরহাট প্রতিনিধি:
এবার বাগেরহাটে সুখী মানুষ এনজিও‘র অনিয়ম , দূর্নিতী ও ১২ কোটি টাকা লোপাটের খবর প্রকাশ করায় দৈনিক সমাজের কথা‘র বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি কে মুঠোফোনে বিভিন্ন মামলাদেয়াসহ দেখেনেওয়ার হুমকী দিযেছে সুখী মানুষ এনজিওর নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্ণ ।
১০ জানুয়ারী শনিবার দৈনিক সমাজের কথা সহ বেশ কিছু পত্রিকায় “ বাগেরহাটের এনজিও সুখী মানৃষ‘র বিরুদ্বে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ “ এবার গোয়ালঘর ছেড়ে কবুতর, হাঁস ও মুরগির ঘরে শিশুদের ক্লাস” শিরনামে খবর প্রকাশিত হওয়ায় সুখী মানুষ এনজিওর নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্ণ ক্ষেপেগিয়ে বেলা ১ টা ৩৪ মিনিটে তার ০১৭১২৫৫৫৭৮৮ নম্বর মোবাইল ফোন দিয়ে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ
মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বাগেরহাট জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক দৈনিক সমাজের কথা বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি মোঃ কামরুজ্জামান কে হুমকী ধামকী দেয়। এসময় তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দিব আমার বিরুদ্বে খবর করার জ¦ালা দেখাব। এসব বলে তিনি ফোন কেটে দেয়।
উল্লেখ্য পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে যে সব শিশু শৈশবেই স্কুল পরিত্যাগ করেছে , লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের লেখাপড়া শেখানোর যে প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সদিচ্ছায় চালু করা হয়েছিল তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বাগেরহাট জেলায়। ওই শিশু শিক্ষা প্রকল্পের প্রায় ১২ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে “সুখী মানুষ” নামের একটি এনজিওর বিরুদ্বে ।
বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কাঠিপাড়াগ্রামের শিখন কেন্দ্রে গিয়ে দেখাগেছে একই ঘরের মধ্যে তিনটি ভাগ করে এক পাশে হাঁস, এক পাশে শিশুরা পড়ছে মাঝখানে মুরগী আর ঘরের মাচায় কবুতরের বসবাস। এবিষয় জানতে চাইলেন ক্ষেপে যান শিখন কেন্দ্রের শিক্ষক দিপালী ।ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদা ক্লাস করানোর কথা খাকলেও দেখা যায় ঘরের বারান্দা ভাড়া নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন এনজিও সুখী মানুষ । ৭ ফেব্রæয়ারী বুধবার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের বোয়ালমারী শিখন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় মাদ্রসায় ৬ষ্ট শ্রেনিতে পড়ে আর এখানে চতুর্থশ্রেণিতে পড়ছে ।
এ কেন্দ্রর এক অভিভাবক বলেন রুম ভাড়া নিয়মিত দেয়না চাকুরী টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষক লোন তুলে মালিককে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেছে । এরকম দৃশ্য জেলার প্রায় সব জায়গায়ই ।
সুখী মানুষ এনজিওর বিরুদ্বে ব্যাংক জালিয়াতি, পার্টনার বা সহযোগি এনজিওদের পাওনা অর্থ বুঝিয়ে না দেওয়া, স্কুল শিক্ষক,উপজেলা ম্যানেজার, সুপারভাইজার নিয়োগে নগদ অর্থ গ্রহন, বিধিবহির্ভূত ভাবে ব্যাংক থেকে ক্যাশ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা, বেতন না দিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান, শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, বই, খাতা, পেন্সিল, শ্লেটসহ বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা সরঞ্জাম যথাযথভাবে প্রদান না করে সেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করা, শিখন কেন্দ্রের ভাড়া বকেয়া রেখে শিক্ষকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে ।
এবিষয়ে শিক্ষিকা সুমি আক্তার ও পলি আক্তার সহ একাধিক শিক্ষীকারা জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে ১২ মাস ক্লাস করানোর পর আমাদের কোন বেতন ভাতা ,শিখন কেন্দ্র ভাড়া না দিয়েই আমাদের কাকুরী চুত করেছে সুখী মানুষ এনজিও । তারা তাদের বেতন ভাতা জরিপের টাকা প্রদানের জন্য উদ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্ঠি আকর্ষন করেছেন।
গত ৪ ফেব্রæয়ারী বাগেরহাট জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারি পরিচালক, মহাপরিচালক বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছেন । ওই চিঠিতে তিনি, কিভাবে বাগেরহাটে এই শিশু শিক্ষা প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি এবং লীড এনজিও “সুখী মানুষ” কি ভাবে চরম অসহযোগিতা করেছে সেই অনিয়মের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন । “সুখী মানুষ” এনজিওটির এই প্রকল্পে কাজ করার কেনো সক্ষমতা নেই বলেও তিনি ওই চিঠিতে মন্তব্য করেছেন ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানাগেছে , লীড এনজিওর সঙ্গে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চুক্তির ৪৮.১ অনুচ্ছেদে এনজিওর আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে ২৫ লাখ টাকা ব্যাংক স্থিতি রেখে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট দাখিল করা বাধ্যতামূলক ছিল। “সুখী মানুষ” যে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট দাখিল করেছিল তা একটি বড় ধরনের ব্যাংক জালিয়াতি। সুখী মানুষ এনজিও যে ব্যাংক একাউন্ট প্রদান করে তা হলো : হিসাব নাম- সুখী মানুষ , হিসাব নম্বর এ/সি নং ০১২১১১১০০০০৬০৩,ব্যাংকের নাম : মার্কেল টাইল ব্যাংক লিমিটেড, খুলনা. ব্রাঞ্চ ও ঠিকানা: খুলনা ব্রাঞ্চ, খুলনা. কিন্তু এই নামে এবং এই হিসাব নম্বরে উক্ত ব্যাংকে “সুখী মানুষ” এনজিও’র কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই ।
এছাড়াও প্রকল্পের টাকা আত্বসাৎ করে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালকের নিজস্ব বিল্ডিং ৬৯, সিমেট্রী রোড, সাউথ পয়েন্ট দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখায় তার নিজ নামে ভূয়া ব্যবসায়িক কাগজপত্র তৈরি করে ৩ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে তার প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা ৪টি থানায় নগর এবং গ্রামের অনগ্রসর বা ঝড়ে পড়া শিশুদের লেখাপড়া শেখানোর অভিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহৎ উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি চালু করেছিলেন তা বাগেরহাট জেলায় সম্পূর্নরূপে ব্যর্থ হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছেন, মিস. নাফিসা আফরোজ বিগত পাঁচ বছরে কতটাকা ব্যক্তিগত এবং কোম্পানি আয়কর দিয়েছেন, তার ব্যাংক একাউন্টে কত টাকা গচ্ছিত ছিল, ব্যক্তিগত এবং কোম্পানির টাকা আয়ের উৎস কি , সেই বিষয়গুলো এখন সামনে আসতে পারে ।