• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

চাহিদার দ্বিগুণ ধান-গম উৎপাদন রাজশাহী অঞ্চলে

দিনকাল বিডি / ২৬৫ Time View
প্রকাশঃ বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী অঞ্চলে ধান ও গমের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। শুধু কৃষকের মুখেই হাসি নয়, ধান ও গমের ভালো ফলন সমৃদ্ধ করেছে এই অঞ্চলের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে। কৃষকের কষ্টে ফলানো এসব ফসল এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যান্য জেলায়।
কৃষি বিভাগ বলছে, রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে গত অর্থবছর চাহিদার দ্বিগুণ ধান ও গম উৎপাদন হয়েছে। সময় মতো প্রণোদনার সার-বীজ পাওয়া ও কম সময়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল আবাদের কারণে চাহিদার দ্বিগুণ ধান-গম উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা।

রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে রাজশাহী কৃষি অঞ্চল। এই অঞ্চলে ধান ও গমের চাহিদা ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন। কিন্তু গত অর্থবছর ধান উৎপাদন হয়েছে ২৯ লাখ ২১ হাজার ৬৮৭ মেট্রিক টন। গম উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ২০৭ মেট্রিক টন ধান ও গম উদ্বৃত্ত থাকছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দুই বছরেই এই অঞ্চলের চার জেলার ৭৬ হাজার কৃষক এক বিঘা জমিতে ধান চাষের জন্য প্রণোদনার আওতায় ৫ কেজি করে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানবীজ এবং ২০ কেজি করে সার পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০২১-২২ মৌসুমে ৪৩ হাজার ২০০ জন কৃষক আউশ, ১ হাজার ৪০০ জন রোপা-আমন হাইব্রিড বীজ এবং ১১ হাজার ৬০০ জন উফশি রোপা-আমন বীজ ও সার পেয়েছেন। ওই বছরই চাষাবাদের জন্য আরও ৬৪৩ জন কৃষককে প্রণোদনার সার-বীজ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ ও ধানের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে উন্নতজাতের ধান চাষ বাড়াচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর। রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে মূলত এখন ব্রি ধান-৭১, ৭৪, ৮৪ ও বোরো মৌসুমে অধিক ফলনশীল ব্রি-৮১, ৮৮ ও ব্রি-৮৯ আবাদ করা হচ্ছে।

রাজশাহীর পবা এলাকার চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ধান চাষে এখন আমাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিঘাপ্রতি ২০-২২ মন ধান হয়- এমন ধানও এসেছে। খড় বিক্রি করেই খরচ উঠে যাচ্ছে। সে কারণে আবারও ধান চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। মনিরুল জানান, গত বছর তিনি দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করলেও এবার ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করবেন।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ সুবিধা ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে ধান ও গমের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী জেলায় ধানের জমি কমলেও ধান ও গমের উৎপাদন বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষাবাদ। এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী তিন বছরে নিম্ন ফলনশীল জাতের চাষ কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছি। কারণ দেশে মানুষ বাড়ছে, কিন্তু জমির পরিমাণ তো আর বাড়ছে না। এছাড়া কৃষকরাও সচেতন হচ্ছেন। তারাও ফসলের যতœ নিচ্ছেন। এর ফলেই উৎপাদন বাড়ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষের ফলেই এটা সম্ভব হচ্ছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই অঞ্চলে যে ধান ও গম উৎপাদন হয় তার অর্ধেক এখানকার মানুষের চাহিদা পূরণ করে। অবশিষ্ট ধান-গম অন্য জেলার চাহিদা মেটাতে কাজে লাগছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category