এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম থেকে : চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন অবৈধ ভাবে বিভিন্ন গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিলো একটি চক্র। খবরের সত্যতা পেয়ে র্যাব–৭ এর একটি টিম ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির মুল হোতাদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নগরীর পাহাড়তলী থেকে।
একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি দলের বড় নেতার দোহাই দিয়ে এবং প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে তারা বাস, টেম্পো কিংবা সিএনজি টেক্সি চালকদের চাঁদা দিতে বাধ্য করে। না দিলে বন্ধ করে দেয়া হয় গাড়ি চলাচল। সিগারেটের প্যাকেটে হাতে নম্বর লিখে বানানো হয় টোকেন। এ ভাবেই চাঁদা আদায় করা ৪ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–৭। শনিবার নগরীর পাহাড়তলী থানার এ–ব্লক বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তার ওপর থেকে চাঁদা আদায়কালে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন হালিশহর থানার হালিশহর হাউজিং এস্টেট এলাকার মোঃ শফি (৫৬), পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার মোঃ রাশেদ (৩৪) এবং একই এলাকার মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৫২) ও সন্দ্বীপ উপজেলার পূর্ব হরিশপুর গ্রামের মোঃ শাকিল মিয়া (৩০)।
র্যাব–৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ নুরুল আবছার সাংবাদিকদের জানান, পাহাড়তলী এলাকায় চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে সংস্থাটি। এর পর-ই অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়ায় শফি সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির ৪৪ হাজার ৪৫০ টাকা ও উদ্ধার করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, তারা পরস্পর যোগসাজসে ৪-৫ বছর ধরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সিএনজি টেক্সি, বাস, টেম্পো, মালবাহী ট্রাক সহ অন্যান্য পরিবহনের গতিরোধ করে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছিলো। বিভিন্ন সময় র্যাবের একাধিক অভিযানের ফলে তারা কৌশল পরিবর্তন করে রশিদের পরিবর্তে সিগারেটের প্যাকেটে হাতে নম্বর লিখে টোকেন সরবরাহ করে থাকে।