• সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।। রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, র‌্যালি ও পুরস্কার বিতরণ নওগাঁর মান্দায় জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা রাজশাহীতে মাদক, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশনা, অবৈধ অটোরিকশা বন্ধের তাগিদ নওগাঁর বদলগাছীতে ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল বিকৃতভাবে কেটে দেওয়ার অভিযোগ ডেভিস কাপ খেলতে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন রাজশাহীর কৃতি টেনিস খেলোয়াড় রাকীন বাঘায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত প্রতিপাদ্য: “করবো সমবায়, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় বাবুল চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা পত্নীতলায় নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত স্বপ্ন সাফ গেমসে ভালো করা: সাঁতারে নতুনদের অনুপ্রেরণা সেরা সাঁতারু জুঁই

বিশ্ব মা দিবসে ১১ জন ‘স্বপ্নজয়ী মা’ পেলেন সম্মাননা

দিনকাল বিডি ২৪ / ১০৪ Time View
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

এম এ আলম বাবলুঃ
বিশ্ব মা দিবস, ২০২৪ উপদযাপন উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ১১ জন ‘স্বপ্নজয়ী মা’ কে সম্মাননা প্রদান করে। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, ইস্কাটন ঢাকার হলরুমে সোমবার (১৩ মে, ২০২৪) বিকেলে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক কেয়া খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাসহ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে যাদেরকে স্বপ্নজয়ী মা সম্মাননা প্রদান করা হয় তাদেরই একজন পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রহিমা খাতুন। সম্মাননা প্রদানকালে প্রত্যেককেই একটি ক্রেস্ট, একটি সার্টিফিকেট এবং বিশ হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়।

রহিমা খাতুন এক লড়াকু মায়ের নাম। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিধবা হন তিনি। তখন তার সন্তান সংখ্যা ছিল ৪ (চার) জন। সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছালমা খাতুনের বয়স তখন মাত্র দেড় বছর। স্বামীর তেমন কোন সম্পদ ছিলনা। সেলাই এর কাজ করে এবং সামান্য কিছু জমির উপর নির্ভর করে খেয়ে না খেয়ে এই মা অতিকষ্টে তার সন্তানদের লালন পালন করেছেন।

মাত্র পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ন রহিমা খাতুন নিজে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ না পেলেও বন্ধ হয়ে যায়নি তার স্বপ্ন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নিজে না পারলেও সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। তার এই স্বপ্ন পূরণের যাত্রা ছিল অত্যন্ত সংগ্রামময়। তিনি হাল ছাড়েন নি সহসাই। নারী হয়ে কৃষি কাজ দেখাশোনার পাশাপাশি হাল ধরেন কিভাবে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করবেন।

স্বপ্নজয়ী মা রহিমা খাতুনের বড় ছেলে মোঃ আব্দুল হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (সম্মান) ও এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলা স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। মেঝ ছেল মোঃ হাফিজুর রহমান ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছোট ছেলে মোঃ হারুনুর রশীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (সম্মান), এম.এ ও এম.এস.এস ডিগ্রী অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, গাজীপুরে কর্মরত। ছোট সন্তান ও একমাত্র মেয়ে ছালমা খাতুন ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা থেকে বি.এস.সি(সম্মান) ও এম.এস.সি; ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি.এড এবং এম.এড ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনা প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ইন্সট্রাক্টর পদে কর্মরত। রহিমা খাতুনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টাই তার প্রতিটি সন্তানকে স্বস্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দিয়েছে।
সন্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেককেরই রয়েছে স্বস্ব ক্ষেত্রে স্বপ্ন পূরনের এমনই সব বাস্তব চিত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category