• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন নয় বিপ্লবী সরকার:. গোফরান চৌধুরী

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৩২ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৪

এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌরসভার অধিবাসী, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট, দেশ, সংবিধান ও দেশের মানুষের জন্য চিন্তা ক্লিষ্ট এবং সর্বোপরি একজন বিচক্ষণ ব্যাক্তি এনামুল গোফরান চৌধুরী বর্তমান দেশ পরিচালনায় অধিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয় বরং বিপ্লবী সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি তার এক বক্তব্যে বলেছৈন, বর্তমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে যে সরকার সে সরকারটাকে আমরা সবাই অন্তর্বর্তী কালিন সরকার বলছি। এর কারণ, হতে পারে এ সরকার একটি ক্রান্তিকালে গঠিত হয়ে কিছু সংস্কার সাধন করে একটি অবাধ সুষ্ঠ স্বচ্ছ অংশগ্রহণ মূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যাবেন। এটা স্বাধীন দেশের জন্য নি:সন্দেহে উদ্দেশ্য মহৎ হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। কারণ, উনাদের ক্ষমতা অবৈধ ভাবে দীর্ঘ বা অনির্দ্দিষ্ট মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কোনো অভিলাষ নেই।

আর এ জন্য বর্তমান সরকার সাধুবাদ পেতে পারেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু, এটাকে যখন “অন্তর্বর্তী কালিন সরকার” বলা হবে তখন এক একটি ভিত্তি থাকতে হবে। এবং এই সরকারকে কি আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, কাজ করতে হবে, যাহা ইতোমধ্যে পালন করতে দেখা গেছে। যেমন : রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে শপথ গ্রহণ এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে বৈধতার রেফারেন্স গ্রহণ। অথচ, সংবিধানের চতুর্দশ ও পন্চদশ সংশোধনীর পর সংবিধান পরিণত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নাক মোছার টিস্যু পেপারে।

যেখানে কোনো ক্রান্তিকাল বা তেমন পরিস্থিতিতে ও এ ধরনের সরকার গঠনের কোনো অবকাশই নেই। তাই যখনই এ সরকার এক্সিট করবেন তখনই নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছা ও অনুকম্পার উপর নির্ভর করতে হবে, নতুবা সংবিধান লংঘনের অভিযোগে ষড়যন্ত্র ও দেশদ্রোহীতার মামলায় বিচারের সম্মুখীন হবেন। যেমন হতে হয়েছে বিগত সময়ে সেনা শাষিত মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন’র সরকার। দেশের সংবিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা ব্যাক্তিত্ব এনামুল গোফরান চৌধুরী বলেন, যারা ২০০৯ সালের নির্বাচিত সরকারের অনুকম্পায় আমেরিকায় পিৎসা ডেলিভারি করছেন। আবার এই সরকার কোনো প্রকার সংবিধান সংশোধনের কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার ও রাখেন না।

সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার কেবল মাত্র সংসদের সেশনে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের ভোটের মাধ্যমে হতে হয়/হবে। উপরন্তু এই সরকার সত্যিই কি কোনো অন্তর্বর্তী সরকার? এই সরকার কি সংবিধানের কোনো ধারায় বা ৯০ সালের ন্যায় দেশের সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে ? তিনি বলেন, সদ্য পতিত ও পলাতক সরকার কি ৯০ এর সরকারে ন্যায় কোনো পদ্ধতিগত ভাবে পদত্যাগ করেছিল? না। বর্তমান কথিত সরকারের নজির কি এদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে আছে? নাই। সুতরাং এই সরকারকে অন্তর্বর্তী কালিন সরকার বলার অবকাশ ও নেই। বরং এই সরকারকে অন্তর্বর্তী সরকার বলা হলে যে প্রক্রিয়ায় এই সরকার এসেছে তথা দেশের তরুণ-কিশোর, শিশু ও আবাল বৃদ্ধ বণিতার আত্মদানে দেশের শিক্ষার্থীদের বিপ্লব ও সর্বস্তরের জনগণের সফল অভ্যুথ্থানের সফলতার ধারাবাহিকতায়, এটাকে উপেক্ষা অবজ্ঞা এবং অস্বীকার করার সামিল হয়।

অথচ, কি অসম সাহসিকতা ও জীবন তুচ্ছ করা প্রতীজ্ঞায় এ সরকার এসেছে তা সাঈদ মুগ্ধ সহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি ডিবি প্রধান সহ অনেক উচ্চ পদস্থ পুলিশদের সামনে মাঠ পর্যায়ের এক পুলিশ কর্তার ভিডিও দেখিয়ে বলা “স্যার গুলি করি, এবং তা যার গায়ে লাগে সে পড়ে যায়, আর কেউ সরেনা এবং পিছু ও হটেনা। এটাই আশঙ্কার ব্যপার” যে, সেটা তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। সুতরাং, বর্তমান সরকার কোনো ভাবেই অন্তর্বর্তী কালিন সরকার নয়, এটাকে অন্তর্বর্তী সরকার বলা যেমন অন্যায় ও গৌরবহীন, তেমনি একটি মহা সত্যের অপলাপ মাত্র। এটাকে অবশ্যই বলতে হবে “বিপ্লবী সরকার বা Revolutionary Government”। গোফরান চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে বিপ্লব হয়েছে, সফল হয়ে বিপ্লবী সরকার গঠন হয়েছে। আর সেই বিপ্লব কোনো সংবিধান বা আইন মেনে হয়না। বস্তুত: সংবিধান ও আইন মেনে কোনো বিপ্লব হয়না। বিপ্লব মানে প্রচলিত আইন অমান্য বা ভাঙ্গা।

বিপ্লব তখনই সংগঠিত হয় যখন কোনো আইনকে গনবিমুখী, নিপীড়ন নিবর্তন ও নির্যাতন মূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো আইন সেবককে শাসক বানায়, শাসককে স্বৈরাচার বানায়, রাষ্ট্রের সকল কাঠামো শাসকের আজ্ঞাবহ ভৃত্যে পরিণত হয়ে রাষ্ট্রের মালিক জনগণকে বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা নির্মমতা প্রদর্শন করে। তাই কোনো বিপ্লব সফল হওয়া মানেই ঐ আইনগুলো অরক্ষণীয় পরিত্যাজয। সুতরাং, একটি বিপ্লবী সরকারই শুধু পারে যে কোনো গণমুখী আইন প্রণয়ন করতে এমনকি নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন সংশোধন করতে। যাহা একটি নির্বাচিত সরকার ও পারেনা দুই তৃতীয়াংশ জনপ্রতিনিধি তথা সাংসদ পক্ষে না থাকলে। সুতরাং বর্তমান সরকার নিজেদেরকে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে “বিপ্লবী সরকার” বলে অফিসিয়ালি ঘোষণা করুন, তাতে জনগণ আপনাদেরকে “বিপ্লবী সরকার” বলবে। পৃথিবীর মানুষ ও সরকার আপনাদেরকে গর্বিত ও সন্মানজনক “বিপ্লবী সরকার” বলবে। আপনারা গণবিমুখী নিপীড়ন নির্যাতন নিবর্তনকর সংবিধান সংশোধন করে কালো আইন প্রণয়নকারি স্বৈরশাসক নিষ্ঠুর নির্মম খুনি সরকার ও তার সকল দলকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করুন। এসবই হবে বিপ্লবীদের বিপ্লবের চেতনার প্রকৃত প্রতিফলন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category