সোহেল রানা মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমে সাথে দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। তপ্ত গরমের কারনে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিশু ও বয়স্ক মানুষরা। তাপদাহের কারনে কৃষক সহ নিন্ম আয়ের মানুষরা কাজে যেতে পারছেন না। ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রা। শুক্রবার দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অপরদিকে ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে হচ্ছে। দিনরাত মিলিয়ে নিয়ম করেই যেন ৯-১০ ঘণ্টা চলে লোডশেডিং। তাপদাহের সাথে সাথে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষে দূর্ভোগ,স্বাস্থ্য সেবায় বিঘœ সহ ২২টি চা বাগানে চা উৎপাদনের বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা।
এরিমধ্যে প্রতিদিনই দিনে ও রাতে পাল্লা দিয়ে চলছে অসহনীয় লোডশেডিং। অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চা উৎপাদন,কারখানা,হাসপাতাল,প্রাইভেট ক্লিনিকি,ব্যাংকিং খাতের সেবা,সাধারণ ব্যবসায়ী, পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারি ছাড়াও শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন চরম বিপাকে। গভীর রাতে গ্রামসহ শহরে একবার বিদ্যুৎ গেলে আসছে ঘণ্টাখানেক পরে। বিদ্যুৎহীন থাকার কারণে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা পড়েছে বিপাকে। অতিরিক্ত ঘামে অনেকেই ঠাÐাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এমন অবস্থায় খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেকায়দায় পড়েছেন। তারা কাজকর্ম করতে পারছেন না। রিক্স্কাচালক মোমিন মিয়া বলেন,গরমের তাপে বাড়ীতেই থাকা যাচ্ছেনা। তাই তেমন ভাবে কাজে ও যেতে পারছি না। কিছু সময় কাজ করি,আবার কিছু সময় বসে থাকি। কাজ না করলে তো আর সংসার চলবে না।কৃষক আজাদুর রহমান বলেন,জমিতে আগাছা জমেছে। গরমের কারনে জমির আগাছা পরিস্কার করতে পারছি না। আগাছা পরিস্কার করতে না পারার কারনে ফসল বিনষ্ট হবে। কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সুত্রে জানা যায়,কমলগঞ্জ ৮২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। পাচ্ছি ১৩ মেগাওয়াট। যা চাহিদার তুলনায় ৬ মেগাওয়াট কম। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং বেড়েছে । বিদ্যুৎ গ্রাহক সালাউদ্দিন জানান,দিনে-রাতে মিলিয়ে ৯-১০ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। থাকছে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ও ঘুমাতে পারছে না। গরমে শরীরে ঘাম বসে কাশি হয়ে গেছে।
পপি আক্তার ডলি বলেন,বাড়িতে বয়স্ক মা-বাবা আছেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে তীব্র ঘামে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। আলাপকালে মাসুম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন,লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাংকে গ্রাহক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।ন্যাশনাল টি কোম্পানীর পাত্রখলা চা বাগান ব্যবস্থাপক দিপন সিংহ বলেন,বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ফলে চায়ের কোয়ালিটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন,বেশ কিছু শিশু ও বয়স্ক মানুষ জ্বর,সর্দ্দি,কাশি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।পল্লী বিদ্যুৎ কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম ফারুক মীর বলেন,চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারবেশন অফিসার আনিসুর রহমান জানান,শুক্রবার দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতি বার বিকাল ৩টায় পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা আরও ২/৩ দিন অব্যাহত থাকবে।