এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : বর্তমান দেশের রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী আয়েশা সুলতানা।
আর তার পাঠানো ওই খোলা চিঠি তে মিথ্যা-বানোয়াটপূর্ন বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য তার নিজের এলাকা মীরসরাই উপজেলা বিএনপি’র নের্তৃবৃন্দ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে এ চিঠি দেন তিনি।
আয়েশা সুলতানা চিঠিতে লিখেছেন, ‘‘মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়, আমার সালাম এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা নিবেন। আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে আপনার নেতৃত্বাধীন স্কাউট টিম মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী।
দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে আপনি বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শপথগ্রহণের পর আপনি আইনের শাসন বজায় রাখার এবং দুঃশাসনের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো রাজধানীর পল্টন থানায় ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বরের ঘটনায় একটি হত্যা মামলায় আমার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে (৮২) অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হলো। যার নম্বর-৪৮/৪০২। অথচ ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি ছিলেন কক্সবাজারে। ওই মামলা গত ২৭ অক্টোবর ডিবি পুলিশ বসুন্ধরার বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পল্টন থানায় মামলার পর তার বিরুদ্ধে তিন থেকে দশ বছর আগের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বেশিরভাগ মামলাই বিগত কয়েকদিনে হয়েছে যেগুলো বানোয়াট এবং বেশ তাড়াহুড়ো করে দায়ের করা হয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-৩, ৬ অক্টোবর, মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ৮ অক্টোবর, মীরসরাই থানার মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ২৪ অক্টোবর।
অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি বছর দুয়েক পূর্বে সিঁড়িতে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে তার বড় হিপ সার্জারি হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ সার্জারি হওয়াতে তিনি কারও সহায়তা ছাড়া হাঁটতে পারেন না। গ্রেফতারের সময় তার হুইলচেয়ারটিও সাথে নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে বেড়ে যাওয়া পারকিনসন রোগ এবং আন্তঃস্থায়ী ফুসফুসের রোগের সাথে চলমান লড়াই
যার ফলে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তার ভারসাম্যহীনতা এবং পারকিনসনের কারণে তিনি প্রায়শই পড়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে তার স্বাস্থ্য পরিচর্যার সাথে জড়িত নিউরোলজিস্ট, অর্থোপেডিক সার্জন, পালমোনোলজিস্ট এবং ফিজিওথেরাপিস্ট তার স্বাস্থ্যের জন্য সমাধান করতে এবং আরও অবনতিরোধ করতে অবিলম্বে চিকিৎসা হস্তক্ষেপের সুপারিশ করেছেন।
প্রস্তাবিত চিকিৎসা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- তার হিপ ফ্র্যাকচার সার্জারির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, জোরালো শারীরিক থেরাপি, তার পারকিনসন্স রোগের আরও অগ্রগতিরোধ করার জন্য নিউরো মূল্যায়ন এবং তার অন্তর্বর্তী ফুসফুসের রোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ। তাছাড়া তিনি ডায়বেটিস, হৃদরোগ, থাইরয়েড, প্রাথমিক ডিমেনশিয়াসহ নানাবিধি শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। আমি এবং উনার সার্বক্ষণিক দুইজন সহকারী উনার ওষুধপত্র, খাওয়াদাওয়া তদারকি করি।সেই ১৮ বছর বয়সে আমার বিয়ের পর থেকেই অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করছি যখন আমার স্বামী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন এমপি হয়েও ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে আজও ৭৩ বছর বয়সেও এই স্বাধীন বাংলাদেশে ৫৪ বছরের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পরেও আমি একই ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করছি।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় শুভপুর ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে আপনার জন্মস্থান চট্টগ্রাম এবং বাসিন্দাদের পাকবাহিনীর গণহত্যা থেকে রক্ষা করেছিলেন, বড় বড় দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে পাকবাহিনীর বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন। তৎকালীন খুব কম জনপ্রতিনিধি রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধ করেছিলেন তিনি হাতেগোনাদের মধ্যে একজন। তিনি সাতবার এমপি ছিলেন, দুবার মন্ত্রী ছিলেন। একাধিকবার প্রতিপক্ষের আক্রমণে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন; কিন্তু কারও প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিলেন না। কারও ক্ষতি করেন নাই তিনি। জীবনভর উদারনৈতিক রাজনীতি করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। কিন্তু যখন তিনি জনপ্রতিনিধি তখন তিনি দলমতের ভেদাভেদ করেন নাই।
কর্মজীবনে তিনি দেশ, চট্টগ্রাম, মিরসরাইয়ের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা, জলাধার রক্ষা আইন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের আদলে ঊর্ধ্বমুখী ভবনসহ অসংখ্য জনবান্ধব প্রকল্প তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। মিরসরাইতে ৩৩ হাজার একর জায়গায় এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল তার মস্তিষ্কপ্রসূত। যেখানে ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করা ‘’থ্রি জিরো’ ধারণার মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে এটি।
আমার পারিবারিক জীবনে উনাকে আমি ও আমার ছেলেমেয়েরা পাইনি। উনি সবসময় দেশের উন্নয়নে ছুটেছেন। গত ২ বছর ধরে অবসর জীবনে মূলত উনাকে পেয়েছি উনার বার্ধক্যজনিত কারণে। অথচ এই সময়েও আমাকে বন্দি জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
১/১১ এর সময় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকের মতো তিনি বিদেশ চলে যাননি এবং তাকে কোনো চার্জশিট ছাড়াই ১৯ মাস আটক রাখা হয়েছিল। বর্তমান উদ্ভুত পরিস্থিতিতেও অনেকের মতো তিনিও বিদেশ চলে যেতে পারতেন। এমনকি দুর্বৃত্তদের দ্বারা ভাঙচুর ও হামলার একাধিক হুমকির পরেও কিন্তু তিনি আইনের শাসন, ন্যায় বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজের বাসভবনেই অবস্থান করেছেন।
আপনার নেতৃত্বাধীন সরকার মিথ্যা মামলা, বেআইনি গ্রেফতার হয়রানিকে প্রশয় দেবে না বলে বিশ্বাস করি। এমতাবস্থায় নানান শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ৮২ বছর বয়স্ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মিথ্যা মামলার জামিনে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’’
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর স্ত্রী আয়েশ সুলতানাল মিথ্যা-বানোয়াটপূর্ন এমন দীর্ঘ চিঠি এবং তাতে সবৈব মিথ্যা বক্তব্য আখ্যায়ি করে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মীরসরাই উপজেলা বিএনপি।
মীরসরাই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধা সহ সকল দেশ প্রেমিক মানুষরা জানেন যে, মুক্তিযুদ্ধে যোগ সামান্য অবদান রাখা তথা, শত্রুর সম্মুখ যোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমান কে মুক্তিযোদ্ধা অস্বীকার করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রকাশে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যে ক’রুচিপূর্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তার জন্য তিনি অনেক বছর জেল খাটার সহ সাজা ভোগ করে যেতে বাধ্য। এর বাইরে মীরসরাই উপজেলার সর্বোত্র বিএনপি’র হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতনের ষ্ট্রিমরোলার চালানো হয়েছে তার নির্দেশদাতা হিসেবে ও সে অনেক বছর জেল খাটতে বাধ্য। এ ছাড়া- পুলিশ কে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর মতো ব্যবহার করতে গিয়ে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার-হয়রানির যে ‘খড়গ’ চালানো হয়েছিলো সে জন্য ও তাকে বহু বছর জেল খাটতে বাধ্য। এ শুধু মীরসরাই উপজেলার, এর বাইরে পুরো চট্টগ্রাম (উত্তর) জুড়ে তার দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তারের করাল গ্রাসের কথা উল্লেখ করে একের পর এক মামলা দায়ের করা হলে তাকে আজীবন জেল খাটতে ও বাধ্য হতে হবে নির্ঘাত। এ ছাড়া-ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর বিগত বছরের পর বছর গুলোর বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরতে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা বলে এবং লিখে ও শেষ করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন বিএনপি নের্তৃবৃন্দ। ফলে, বিএনপি নের্তৃবৃন্দ বর্তমান দেশের শাসনকর্তা হিসেবে ড. মুহাম্মাদ ইউনুস এর প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর স্ত্রীর মিথ্যা-বানোয়াটপূর্ন বক্তব্য সম্বলিত চিঠি টি নাকোজ করে দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন পূর্বক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে জেল এ বন্ধি রাখাবস্থায় তার যথাযথ বিচার কার্য পরিচালনা করার জন্য বিচারিক ব্যবস্থা কে সহযোগিতা করে যাবেন। অন্যথায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করা হবে বলে ও মন্তব্য করেন মীরসরাই উপজেলা বিএনপি নের্তৃবৃন্দ।