এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: বৈষ্ণব বিরোধী ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় নেতা-হকর্মীদের জীবন বাজী রাখা জুলাই আন্দোলনে পতিত ও ভারতে পলায়নকৃত আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশির্বাদপুষ্ট ভারতীয় এজেন্ট ওসি প্রদীপের হাতে নিহত সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার
মেজর সিনহা হত্যাকান্ড এবং
জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ও এডিশনাল ডিআইজি মাসুদ কে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে দীর্ঘদিন পর। সূত্র জানায়, মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার মাস্টার মাইন্ড খ্যাত এবং অন্যতম প্রধান কারিগর পুলিশের ইউনিফর্ম ধারী ওই মাসুদ অন্যতম:। পুলিশ অফিসার নামক ওই কুলা’ঙ্গার, তৎকালীন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এসপি এ বি এম মাসুদ হোসেন।
সূত্র জানায়, ২০২০ সালে খু’নি প্রদীপকে সে ফোনে বলেছিলো- মেজর সিনহা কে ড্রাগ ডিলার হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য। এমনকি প্রদীপ এর সেইফ এক্সিটের জন্য তার মেডিকেল ছুটি ও অনুমোদন করে দিয়েছিলো ওই মানুষরূপী জানোয়ার। তাকে সিনহা হত্যা মামলার আসামি করার জন্য পিটিশন করা হলে ও তা খারিজ করে দেয় তৎকালীন শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ আদালত।
কিন্তু, তার ওইসব অপকর্মের পর তার স্থান হয় প্রথমে রাজশাহী রেঞ্জ ও পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর ডেপুটি কমিশনার হিসেবে, যেটা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন। সব চেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই খুনির উপর গণহত্যাকারী বর্তমানে পলাতক তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এতো-ই খুশি ছিলো যে, ২০২৩ এর ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের ঠিক আগে ওই মাসুদকে এডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি দিয়ে ডিএমপির জয়েন্ট কমিশনার পদে বসিয়ে দিয়েছিলো!
জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে এই খুনি স্ব’শরীরে অংশগ্রহণ করেছিলো বলে প্রতীয়মান। ৫ আগস্টের পরে তার নামে মামলা হওয়ার পরে রাজশাহীতে সংযুক্ত রাখা হয়েছিলো বলে সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।
ঠান্ডা মাথার খুনি এডিশনাল ডিআইজি মাসুদ কে অনতিবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে সিনহা হত্যা মামলা ও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা হত্যা মামলায় এ্যারেস্ট করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস/বুদ্ধিদীপ্ত অফিসার বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ মোস্তফা।
তিনি ঘটনার প্রাসঙ্গিক বিষয়ের বক্তব্যে বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হলে ও একজন অফিসার হিসেবে সহকর্মী মেজর সিনহা হত্যাকান্ড মেনে নেয়ার মতো না হলে ও শেখ হাসিনার কাছে ছিলো ওই রকম হত্যাকান্ড পুতুল খেলার মতো। আর তাই জঘন্যতম: বর্বর ও নিষ্ঠুর ভাবে দেশপ্রেমিক খ্যাত সেনাবাহিনীর একজন চৌকস অফিসার (মেজর) সিনহা কে হত্যা করা হলে ও শেখ হাসিনার বুক কাঁপেনি এবং হ্রদয় নরম হয়নি!
সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, বিগত সময়ে কোনো ধরনের হত্যাকান্ডের বিচার হওয়া তো দুরের কথা কাউকে বাদ-প্রতিবাদ করার সুযোগ ও দেয়া হয়নি।
শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও তাদের সরকার এবং শেখ হাসিনার তোষামোদ কারী ছাড়া বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল শ্রেণী ও পেশার মানুষ কে জিম্মি করে রেখে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়েছিলো। আর সেই কারণে অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছিলো।
কিন্তু, শেখ হাসিনার পলায়ন ও আওয়ামী সরকারের পতন এর পর বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত থাকা অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর মোহাম্মদ মোস্তফা অবিলম্বে খুনি ওসি প্রদীপ কর্তৃক সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার মেজর সিনহা হত্যাকান্ড পরিচালনার প্রধান কারিগর কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাবেক এসপি এবং বর্তমানে ডিএমপির জয়েন্ট কমিশনার এ বি এম মাসুদ হোসেন কে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার সিনহা হত্যাকান্ড এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতা হত্যাকান্ড সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন অত:পর চাকুরী থেকে তাকে বরখাস্তের জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর মোহাম্মদ মোস্তফা উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নবাসীর গর্বিত সন্তান।