এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম ::
চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানা এলাকায় নিজের স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করার ঘটনা য় দায়ের করা মামলায় স্বামী সহ ২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সিরাজাম মুনীরার আদালত এই রায় দেন।
দণ্ডিত ২ জন হলেন, ভোলা জেলার তমুজউদ্দীন থানার গোলকপুর এলাকার মোঃ শাহজাহানের পুত্র মো.ষঃ ফরহাদ হোসেন (৩৪) ও একই থানার মৃত আবুল হাশেমের পুত্র মোঃ সেলিম উদ্দিন, প্রকাশ মনির (৩৮)।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে স্ত্রীকে গলাটিপে করে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্বামী ফরহাদ ও তার মামা মোঃ সেলিমকে মৃত্যুদণ্ড, প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা ও অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে মরদেহ গুম করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড সহ অনাদায়ে আর ও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ের ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পরে তাদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, হত্যার শিকার জেসমিন আক্তারের সাথে আসামি মোঃ ফরহাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো।
জেসমিন ও ফরহাদ দু’জনেরই আগে সংসার ছিলো। ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ফরহাদ জেসমিনের মোবাইলে কল দিয়ে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় দেখা করতে বলেন। ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর নগরের আকবর শাহ থানার হারবাতলী গ্যাস লাইন এলাকার নুর হোসেনের বাড়ি এলাকায় নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ে ফেলে দেন।
সেখানেই মামা সেলিম মনিরের সহায়তায় জেসমিনকে গলাটিপে হত্যা করেন ফরহাদ। এরপর পাহাড়ের ঝোপের মধ্যে মরদেহ ফেলে তারা চলে যান। ২ অক্টোবর পুলিশ জেসমিনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জেসমিনের ছোট ভাই বাদী হয়ে নগরের আকবরশাহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।