মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)
হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলা টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ও
সিন্ডিকেট শাসনের অবসান ঘটানোর দাবিতে রাজশাহী নগরীতে
মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১২টায় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে
রাজশাহীবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, রামেক হাসপাতালে একটি
প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জিম্মি করে
রেখেছে। তাদের দাবি, উপ-পরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব, সহকারী পরিচালক
(প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব এবং পরিচালকের পিএ এস.এম রাশিদুল
সালেকিন (সুমন)-এর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে।
এদের দ্রুত অপসারণ করে হাসপাতালকে ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট মুক্ত করার দাবি
জানান তারা।
রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানীর
সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি
গোলাম মর্তুজা, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনার রশিদ, বিএনপি নেতা
খাইরুল ইসলাম, সাংবাদিক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান রেজা, লোকনাথ
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সাহাবুদ্দিন, বিটিসি নিউজের চেয়ারম্যান
আনোয়ার আক্তার কাজলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট বর্তমান
সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং চিকিৎসা খাতকে অস্থিতিশীল করতে
এখনও সক্রিয় রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ৩৩ জন শিশুর মৃত্যুর
ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং
হাসপাতাল পরিচালনাকেও সহযোগিতা করেনি।
মানববন্ধনে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠে আসে। অভিযোগ
অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগম নামে এক নারীর কাছ
থেকে পরিচ্ছন্নকর্মী পদে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা
নেওয়া হয়। তাকে আইডি কার্ড ও পোশাক দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন না
দিয়ে উল্টো অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায়
ভুক্তভোগী আদালতে মামলা (নং-৪৩৭) দায়ের করলেও এখনো কোনো প্রতিকার
পাননি বলে জানানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরিচালকের পিএ সুমনের নেতৃত্বে ওয়ার্ড
মাস্টারসহ ৮-১০ জনের একটি চক্র ২০০৪ সাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন
কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ওয়ার্ড মাস্টার শহিদুলের বিরুদ্ধে
হাসপাতালের কোয়ার্টারে অবৈধভাবে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের
অভিযোগ থাকলেও তা নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ আবু তালেব বলেন,
সার্বিক বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক দেখেন। তবে উপ-পরিচালক ডা.
হাছানুল হাবিব, পিএ সুমন এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা
হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগ ও
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, অবিলম্বে এই
সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে রামেক হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা
নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন
বক্তারা।#