সোহেল রানা, যশোরঃ যশোরের ভৈরব ব্রিজের কাছে সরিষা খেত থেকে হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত ওই যুবকের নাম ফরিদ গাজী। উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার গুয়াখোলা শাহী বস্তির বাসিন্দা আফিল উদ্দিন গাজীর ছেলে।
পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেছে।
আসামিরা হলেন- নড়াইল সদর থানার যদুনাথ পুর গ্রামের সাখাওয়াত মোল্যার ছেলে শান্ত (২১) ও একই গ্রামের ছবুর মোল্যার ছেলে সাকিব মোল্যা (২১)।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের নামে ধর্ষণ মামলা রয়েছে। কারাগারে থাকা কালীন উল্লিখিত দু’ আসামির সাথে নিহত ফরিদ গাজাীর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ে তারা তিনজন একটি রুম ভাড়া নিয়ে নওয়াপাড়া বেঙ্গল মিল এলাকায় বসবাস করত। তারা জাহাজের স্কটসহ বিভিন্ন কাজ করত। মাঝে মধ্যে তারা চুরিও করত। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দু’যুবকের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত ফরিদ গাজী তাদের কিছু টাকাও আত্মসাৎ করেছে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রেফতার হওয়া ওই দু’জন স্যালো মেশিন চুরির কথা বলে ফরিদকে ভৈরব ব্রীজের কাছে ডেকে নেয়। এরপর তাকে জবাই ও গলায় ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন যার নং-১৩, তাং- ১৬/০১/২০২৩, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। পরে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দারের দিকনির্দেশনায় যশোর ডিবি ও অভয়নগর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের আটক করে।
নিহতে বোন আসমা বলেন, তার ভাই জাহাজে কাজ করত, কখনো অন্য কাজও করত। ফরিদ নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের পাশে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত। ওই বাসায় তার আরও দুই বন্ধু ভাড়া থাকত। টাকা নিয়ে ওদের মধ্যে বিবাদ ছিলো। এ কারনে তার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে ওই দু’জন।
উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন ভৈরব ব্রীজের পাশে দক্ষিণ দেয়াপাড়া গ্রামে সরিষা খেতে ফরিদের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।পুলিশ খবর পেয়ে বিকালে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে মরদেহ আঙ্গুলের ছাপ শনাক্ত করণ করার চেষ্টা করে।এতে ব্যর্থ হয়ে মরদেহ পকেটে একটি চিরকুটে পাওয়া মোবাইল নং ধরে মরদেহ পরিচয় শনাক্ত এবং আসামি গ্রেফতার করা হয়।