সোহেল রানা,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী কালাছড়া বনবিটের টিলাভূমি বন্যপ্রাণির বিচরণ এলাকা। কিন্তু টিলার ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠছে লেবু,আনারস ও কাঁঠালবাগান। বনের বিভিন্ন স্থান থেকে মাঝে মাঝে কেটে নেওয়া হচ্ছে মূল্যবান বৃক্ষরাজি। প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল।
সরেজমিনে দেখা যায়,পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা ঘন সন্নিবেশিত প্রাকৃতিক বৃক্ষরাজিতে ভরপুর ছিল কালাছড়া বন। বনের মধ্যে বেশ কিছু ভিলেজার বসবাস করছেন। তারা বন দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত। এ ভিলেজারদের অনেকেই বনের ভূমি দখল করে নিয়েছেন। এসব ভূমিতে লেবুবাগানসহ বিভিন্ন ফসলিবাগান গড়ে তুলছেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজসে তারা বনের ভেতরে ফলেরবাগান গড়ে তুলছেন। বনের বিভিন্ন টিলাভূমি থেকে বিলীন হচ্ছে আকাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
বনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পড়ে থাকতে দেখা যায় গাছের গোড়া। লাউয়াছড়া সংলগ্ন কালাছড়া বনের প্রাকৃতিক গাছের অনেকগুলোই চুরি হয়েছে। বাফারজোন হিসাবে পরিচিত বনটিও উজাড় হয়েছে। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে প্রাকৃতিক এই বন। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বনের ছড়া ও খাল শুকিয়ে বন্যপ্রাণীর খাওয়ার পানির সঙ্কট তীব্র হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি বিলীন হচ্ছে বণ্যপ্রাণীর আবাসস্থল লাউয়াছড়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন,আসলে জনবল কম থাকায় আমাদের কিছু সমস্যা হচ্ছে। স্বল্প জনবল নিয়ে বিশাল এলাকা দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া গাছ চুরি রোধে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি।
‘তিনি বলেন, বন রক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন সংরক্ষণ অঞ্চল হিসাবে লাউয়াছড়া উদ্যানের পার্শ্ববর্তী কালাছড়া বন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে টিলা কাটা,গাছ চুরি,ফলেরবাগান গড়ে ওঠায় কমছে বনের গভীরতা। গত দুই দশকে কালাছড়া বনের গভীরতা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এ বনের পুরোনো মূল্যবান অনেক গাছ বিলীন হয়ে গেছে।
শুকনো মৌসুমে কখনো আগুনেও বনের টিলা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে,গাছ পাচার,মাগুরছড়া গ্যাস কূপ দুর্ঘটনা,রেল ও সড়ক পথ,লেবু-আনারস বাগান স্থাপন, অত্যধিক দর্শনার্থীর আগমনের কারণে লাউয়াছড়া বনের অনেক প্রাণী কালাছড়া বনে আশ্রয় নেয়।
এখন কালাছড়া বনেও তাদের থাকাটা ধীরে ধীরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। কমলগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কালাছড়া বনের মূল্যবান গাছ কেটে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে ফাঁকা হচ্ছে বন। ফলে প্রাণীর আবাসস্থল বিলুপ্ত হচ্ছে। এভাবে গাছ চুরি অব্যাহত থাকলে অচিরেই কালাছড়ার পুরো বন ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন,এখন গাছ চুরি প্রায় বন্ধ আছে।
আগে গাছ চুরি হয়েছে বেশি। এখানে বেশি চুরি হয়েছে আগর আর বাফারজোন বাগানের কিছু গাছ। তবে বাফারজোন বাগান রক্ষায় স্থানীয়দের নিয়ে অনেক সভা হয়েছে। আমরাও সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে ভিলেজার হিসাবে যারা আছে,তারা দীর্ঘ সময় ধরেই বসবাস করছেন।’লাউয়াছড়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন,আসলে জনবল কম থাকায় আমাদের কিছু সমস্যা হচ্ছে। স্বল্প জনবল নিয়ে বিশাল এলাকা দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া গাছ চুরি রোধে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি।’তিনি বলেন,বনরক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।