• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের দায়ের আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর নওগাঁয় যমজ নবজাতকের একজনের সন্ধান না পাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ নওগাঁর আত্রাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত নওগাঁর মহাদেবপুরে সন্তানকে শাসন করায় শাশুড়ির বকাঝকা; অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা মহাদেবপুরে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান; দুই লাখ টাকা জরিমানা বাঘায় মাজারের গ্রীল কেটে ও গোরস্থানের দান বাক্স ভেঙ্গে টাকা চুরি! নওগাঁর মান্দায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে রাজশাহীতে আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নাচোলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত পার্বতীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহিত দিবস পালিত,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

চট্টগ্রামের এম, ভি আব্দুল্লাহ জাহাজ’ সোমালিয়ায় ডাকাতদের কবলে পড়ে ২৩ নাবিক জিম্মি: বাঁচার আকুতি

দিনকাল বিডি ২৪ / ২২৪ Time View
প্রকাশঃ বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪

এম, এ কাশেম, ব্যুরো প্রধান ‘দিনকাল বিডি’ ট্টগ্রাম: ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জল দস্যুদের কবলে পড়েছে চট্টগ্রামের এস আর ট্রেডিং কোম্পানির মালিকানাধীন ‘এমভি আবদুল্লাহ’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে এ জাহাজটি আক্রান্ত হয়।
সোমালিয়া থেকে প্রায় ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রে কমপক্ষে ১০০ দস্যু জাহাজটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ওই জাহাজে কর্মরত ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক দস্যুদের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। নৌপরিবহণ অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, সমুদ্রগামী এ জাহাজটি কয়লা নিয়ে মোজাম্বিক থেকে দুবাই যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গালফ অব ইডেনে জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় দস্যুরা। তাদের অনেকের হাতে অস্ত্র রয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছে।

এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটির মালিক চট্টগ্রামের এসআর শিপিং লিমিটেড। এটি মূলত: বাল্ক ক্যারিয়ার।
জাহাজটি আক্রান্তের তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। তিনি বলেন, “জাহাজের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। জাহাজের ক্রুরা (নাবিক) নিরাপদে রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক যে প্রক্রিয়া ও কৌশল রয়েছে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে একই কোম্পানির জাহান মনি নামের আরেকটি জাহাজ দস্যুরা জিম্মি করেছিলো। পরে সেটি ও উদ্ধার করা হয়।

এদিকে পাওয়া শেষ খবরে জানা গেছে, ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি আবদুল্লাহ’ নামের জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জিম্মি জাহাজের ২৩ নাবিককে পরিচয় জানা গেছে। বাঁচার আকুতি জানিয়ে অডিও বার্তা দিয়েছেন তাদের কেউ কেউ। ভারত মহাসাগরে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই জলদস্যুরা সেটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। বর্তমানে জাহাজটি সোমালিয়ার বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির এক নাবিক।

পণ্যবাহী জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। মঙ্গলবার (মার্চ ১২) দুপুর ১টার দিকে জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর জানতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠীটির কর্তৃপক্ষ।

আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে কয়লাবোঝাই জাহাজটির গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে। ওই জাহাজের ক্রু লিস্ট থেকে জানা যায়, এম ভি আবদুল্লাহর মাস্টার বা ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন চট্টগ্রামের রাশেদ মোহাম্মদ আব্দুর, চিফ অফিসার হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রামের খান মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ এবং সেকেন্ড অফিসার হিসেবে আছেন চট্টগ্রামের চৌধুরী মাজহারুল ইসলাম। সেই সঙ্গে থার্ড অফিসার হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুরের ইসলাম মো. তারেকুল, ডেক ক্যাডেট হিসেবে আছেন টাঙ্গাইলের হোসাইন মো. সাব্বির।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে এমভি আবদুল্লাহ সোমালীয় জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর অন্তত ১০০ জলদস্যু জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বর্তমানে ২৩ নাবিককে কেবিনে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি জানার পর নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান ওই শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে যোগাযোগ না করেই কীভাবে নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

গোল্ডেন হক’ নামের জাহাজটি কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং করপোরেশনের বহরে যুক্ত হওয়ার পরে এর নাম হয় ‘এম ভি আবদুল্লাহ’। ২০১৬ সালে তৈরি ১৯০ মিটার লম্বা এই জাহাজটি গত বছর এসআর শিপিংয়ের বহরে যুক্ত হয়। এরপর সাধারণ পণ্য পরিবহন করে আসছিল জাহাজটি।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং ২০০৪ সালে তাদের প্রথম জাহাজ কেনে। ‘এমভি ফাতেমা জাহান’ ছিল তাদের প্রথম জাহাজ। দেশে এখন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ৫২।

এগুলোর মধ্যে ২৩টি কেএসআরএম গ্রুপের। আর এক দশকেই সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে জাহাজ পরিচালনা ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছে গ্রুপটি। কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কেএসআরএম।
এদিকে, ভারত মহাসাগরে কয়েক দশক ধরে বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এ কারণে এ জলপথ ব্যবহার করে পরিচালিত পণ্য পরিবহন ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। তবে জলদস্যুদের কাছে বিষয়টি যতটা না ছিনতাই, তার চেয়ে বড় ধরনের আয়ের উৎস হিসেবে বিষয়টিকে দেখছে তারা।

বিভিন্ন সময় দস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিকেরা এমনটাই জানিয়েছে।
এর আগে, ২০১১ সালের মার্চে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয় বাংলাদেশি ২৬ নাবিকসহ বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাহান মনি। তিন মাস পর মুক্ত হয়ে জাহাজটি সোমালিয়া থেকে ওমানের সালালা বন্দরে যায়। একটি ছোট উড়োজাহাজে করে সোমালিয়ার জলদস্যুদের মুক্তিপণের টাকা পৌঁছে দেয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তা টেলিফোনে জানান জাহাজটির ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফরিদ।

সর্বশেষ খবরে আরো জানা গেছে, উক্ত জাহাজ টি তে অনেকেই রয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। খবরটি তাদের বাসা/বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালে তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়া ও বিভিন্ন আত্মীয়–স্বজন এবং আশপাশের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
কেউ কেউ জাহাজে জিম্মি থাকাদের রোজার মাসে কি করবেন এবং ঈদের সময় কি, কি করবেন তা স্মৃতিচারণ করতে করতে কান্নায় চোখ ভাসাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category