এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে খিরা চাষের পরিধি বেড়েই চলেছে। আগাম চাষে লাভবান হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আগাম ফলন হওয়ায় ভালো।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ বছর ২২০ একর জমিতে খিরা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ একর জমিতে আগাম জাতের খিরা চাষ হয়েছে। উপজেলার ১ নং করেরহাট, ২ নং হিঙ্গুলী, ৬ নং ইছাখালী, ৮ নং দুর্গাপুর, ১২ নং খৈয়াছড়া, ১৫ নং ওয়াহেদপুর ও ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নে খিরা চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে আগাম চাষে এগিয়ে রয়েছে উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ও ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের কৃষকরা।
উপজেলার ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অন্য শীতকালীন সবজির পাশাপাশি জমিতে খিরার আবাদ করেছেন একাধিক চাষি। ক্ষেতে পরিচর্যা করছেন ওই গ্রামের কৃষকরা। এলাকার এক কৃষক ১ একর জমিতে খিরা চাষ করেছেন। পাশাপাশি টমেটো ও চাষ করেছেন আরও ১ একর জমিতে।
তিনি জানান, এবার প্রায় ১ একর জমিতে খিরা চাষ করেছি। প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে বিক্রি শুরু করেছি। প্রায় ৩ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো। ডিসেম্বর মাসের শুরুতে টমেটো বিক্রি শুরু হবে।’
১২ নং খৈয়াছড়া এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘এ বছর ২৫ শতক জমিতে খিরা চাষ করেছি। গত ৭-৮ বছর ধরে অনেকেই খিরা আবাদ করছেন। আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আরও প্রায় দেড় মাস বিক্রি করা যাবে। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবো।’
আরেক বলেন, ‘এবার ২০ শতক জমিতে খিরা আবাদ করেছি। আগাম চাষ করায় ভালো দাম পেয়েছি। শুরুতে প্রতি কেজি খিরা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি বিক্রি করছি ৪০-৪৫ টাকা দরে।’
এখানকার খিরা ফেনী, সীতাকুণ্ড, বারইয়ারহাট, ছাগলনাইয়া ও চট্টগ্রাম শহরে পাইকারি ব্যবসায়িরা নিয়ে যায়। উপজেলার বড়দারোগাহাট, মিঠাছড়া, বড়তাকিয়া, মীরসরাই সদর, বারইয়ারহাট, করেরহাট বাজারে পাইকারি বিক্রি করা হয়।
খুচরা ব্যবসায়ী মধ্যে একজন বলেন, ‘মীরসরাইয়ে উৎপাদিত খিরা তুলনামূলক অন্য এলাকার খিরার চেয়ে মিষ্টি বেশি। তাই বাজারে এর চাহিদা ও অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমি প্রতি বছর হিঙ্গুলী ও খৈয়াছড়া ইউনিয়নে উৎপাদিত খিরা কিনে খুচরা বিক্রি করি।’
খৈয়াছড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘খৈয়াছড়া ইউনিয়নের কৃষকরা গত ১০-১২ বছর ধরে আগাম খিরা চাষ করে আসছেন। আগাম ফলন লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষের পরিধি বাড়ছে।’
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘মীরসরাই উপজেলার মাটি খিরা চাষের জন্য উপযোগী। আগাম উৎপাদিত খিরার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করে যাওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার খিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে বলে ও জানান তিনি।’