সোহেল রানা, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে এখন আনারসও চাষ হচ্ছে। এখানকার উঁচু নিচু টিলায় শুধু আনারস আর আনারস। চায়ের পরেই রয়েছে আনারস ও লেবুর অবস্থান। এবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। গত বছরের তুলনায় এবার শ্রীমঙ্গলে আনারসের দামও কিছুটা কম। এখানকার আনারস যেমন মিষ্টি ও তেমনি সুস্বাদু।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলায় ষাটের দশক থেকে আনারস চাষ শুরু হয়।
এখানকার উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ু আনারস চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উপজেলার মোহাজেরাবাদ, বিষামণি, হোসনাবাদ, বালিশিরা, ডলুছড়া, সাতগাঁও, নন্দরানী ও মাইজদীহির পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে এবার আনারস চাষ হয়েছে। এবার আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলনের কারণে গত বছরের তুলনায় এবার আনারসের দামও কিছুটা কম। এই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সারাবছরই কমবেশি আনারস যায়। আনারস বাগানের মালিক সামছুল হক বলেন, আমি ৩০ একর জায়গায় আনারস চাষ করেছি তার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে লেবু ও কলা আছে।
এবার আগাম বৃষ্টি হওয়ায় আনারস খুব ভালো হয়েছে। এই বৃষ্টি আনারসের জন্য খুব উপকার। একটু আগেই আনারস তুলে বিক্রি করেছি। এগুলো করতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকার মতো আনারস বিক্রি করেছি। এখানো পুরো আনারসই বাগানে পড়ে আছে।’বাগান মালিক সামছুল হক আরও বলেন, ‘বর্তমান বাজারে আনারসের দাম বেশ ভালো। আমরা আনারসগুলো আলাদা করে ৩ ভাগে ভাগ করে বিক্রি করি। বড়, মাঝারি ও ছোট। এক হাজার বড় আনারসের দাম ৬ হাজার, মাঝারিগুলো ৩ হাজার ৫ শ’ টাকা ও ছোটগুলোর দাম ২ হাজার টাকা।
গতবছর আনারস বাগান করে লস খেয়েছি, আশা করছি এবার কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবো। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগ নামেমাত্র খোঁজ খবর নেয়। হঠাৎ ট্রেনিং করায়, কিছু জিনিসপত্র দেয় তাছাড়া কিছু না। একজন কৃষক কিভাবে লাভবান হবে সে পরামর্শ তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। এছাড়াও ভারতের কিছু জায়গা থেকে অবৈধভাবে এসব ফল আমাদের বাজারে আসে। যে কারণে আমাদের ফসলের দাম কমে যায়। সেদিকটা কর্তৃপক্ষ নজর দিলে আমাদের জন্য উপকার হবে।’শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জল সূত্রধর বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে এবার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৩-১৪ টন আনারস পাওয়া যায়। আনারসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ মোবাইলে জানান, ‘এ জেলায় ১২১০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। গতবছর উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার ৫শ’ ৭০ মেট্টিকটন। এবছর তার চেয়ে বেশি আশা করা যায়। তাছাড়া অফ সিজনেও আনারসের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষক লাভবান হবেন। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, ‘আমাদের কাছ থেকে ভালো সেবা পায়। আর পাহাড়ি উচু নিচু জায়গার কারণে হয়তো নেটে যোগাযোগ করতে তাদের সমস্যা হতে পারে। কিন্ত সরাসরি আমার কাছে কোনও অভিযোগ করলে আমি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি কৃষকদের ভালো পরামর্শ দিতে। বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ মোবাইলফোনে আরও জানান, ‘গতবছর এ জেলায় ২০ হাজার ৫ শ’ ৭০ মেক্ট্রিক টন আনারস উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়া আরও বেশি হবে বলে আশা করছি।