রাজশাহী অফিস: রাজশাহী মহানগরীর কাজলা মৃধাপাড়া এলাকার লালু ও শ্যামলের বাগানে অভিযান চালিয়ে গাঁজা-সহ ৬জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ অক্টোবর) সকালে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা এলাকার বরজাহানের ছেলে তরিকুল ইসলাম(৪৫), মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম(৪৫), মৃত মুন্টুর ছেলে মোঃ সবুজ আলী(২৮), কাজলা কেডি ক্লাব এলাকার মৃত ইরাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ ইয়াকুুব আলী(৩০), একই এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম(৩৮), কাজলা বউ বাজার এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে মোঃ সিহার(২০)।
সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন।
এজাহারের বরাত দিয়ে মতিহার থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই পলাশ জানায়, রবিবার (৮ অক্টাবর) দিনগত রাত সাড়ে ১০টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মতিহার থানাধীন কাজলা মৃধাপাড়া এলাকার শ্যামলের বাগানে কাঠের চৌকিতে পলিথিনের ছাউনির নিচে কয়েকজন ব্যক্তি একত্রে গাঁজাসহ অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে ১১টায় সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৩০গ্রাম গাঁজা-সহ ৬জনকে গ্রেফতার করে এসআই মোঃ পলাশ আলী, এএসআই মোঃ শাহ নেওয়াজ বিপ্লব ও সঙ্গীয় ফোর্স। এ সময় জব্দ করা হয় পলিথিনের উপর খোলা অবস্থায় ১৩০ গ্রাম গাঁজা, মূল্য ৫,২০০/ টাকা, পলিথিনে খোলা অবস্থায় ১০গ্রাম টার শুকনা তামাক পাতা, ১৫ গ্রাম নারিকেলের শুকনা খোসা, ২টি গাঁজা খাওয়ার কলকি, ২টি গাঁজা কাটার কাটনি, ৩টি গাঁজা কাটার কাঠের টুকরা, গাঁজার ছোট পুরিয়া বানানোতে ব্যবহৃত ৭ বর্গ সেঃ মিঃ সাদা কাগজ ২৮টি, একটি গোলাকার মাটির পাত্র বিশেষ, মোমবাতি ১টি, দিয়াশলাই ১টি।
উল্লেখ্য, গত অনুমানিক ২০বছর পূর্বে কাজলা মৃধাপাড়া এলাকায় জনৈক লালু ও শ্যামলের বাগানে মাদক ও জুয়ার আড্ডা চলতো দিন রাত। এ নিয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী সাবেক ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সাথে নিয়ে ২০০৯ সালে কাজলার মোড়ে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। বিষয়টি আরএমপি পুলিশ কমিশনার এর দৃষ্টিগোচর হলে ওই বাগানে পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজন জুয়াড়ীকে আটক করে এবং জুয়া খেলার ছাউনি ভেঙ্গে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেই থেকে মাদক জুয়ার আসর বন্ধ থাকলেও গত ২বছর যাবত শিয়ালের মত ঘাপটি মেরে গাঁজার কারবার চালাচ্ছে জনৈক মাদক কারবারি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ব্যপারে প্রকৃত মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা-সহ মাদক কারবার বন্ধের দাবি স্থানীয়দের।