• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

রাজশাহীর নিন্ম মধ্যবিত্তদের আয় না বাড়লেও বাড়ছে নাভিশ্বাস

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৩৫ Time View
প্রকাশঃ রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছেই। এই পাগলা ঘোড়া কোথায় গিয়ে থামবে, কে থামাবে, তা জানতে চায় সাধারণ মানুষ। মধ্য ও নিন্ম বিত্তের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে প্রতিনিয়ত। জিনিসপত্রের মুল্য হু হু করে বাড়লেও বাড়েনি মানুষের আয়।

দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এর সঙ্গে থেমে নেই চাল, আটা, ময়দা, ডাল, আলু, আদা, রসুন, ডিম, মুরগি, মাছ, লবণ, মাংস ও শাক-সবজির দাম। প্রতিদিনই দাম বাড়ায় উদ্বেগে ফেলছে ক্রেতাদের। আগে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছিল, তা কমারও কোনো লক্ষণ নেই। আবার সরকারের বেঁধে দেয়া দামও মানা হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী চাপে চিড়েচ্যাপটা হচ্ছে নি¤œ ও মধ্যবিত্তরা।

পরিবারের ন্যূনতম আমিষের জোগানও নেই অনেক পরিবারে। সপ্তাহান্তেও মাছ-মাংসের দেখা মেলে না নিন্ম ও মধ্যবিত্তের। পাঁচশ টাকার বাজারে ব্যাগের অর্ধেকও পোরে না। নি¤œবিত্তের মানুষ দৈনিক বাজার করতে এসে যদি ৫৫ টাকা দামের তিন কেজি চাল কেনেন, তাহলে ১৬৫ টাকা, আধা কেজি ডাল ৬০ টাকা, আধা লিটার তেল ৯৫ টাকা, আলু এক কেজি ৪৫ টাকা, এক হালি ডিম ৫২ টাকা, আধা কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, ১০০ গ্রাম কাঁচামরিচ ২৫ টাকা খরচ হয়। মাছ-মাংসের কথা তো তারা চিন্তাও করতে পারেন না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান বাজার পরিস্থির মূল কারণ মূল্যস্ফীতি। আর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে নি¤œ আয়ের মানুষের ওপর। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরও কঠিন হয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের জীবন। রাজশাহীতে কয়েকজন সাধারণ মানুষের কথা হয়।

তারা জানান, খুব টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাদের সংসার। সঞ্চয় ভেঙে ধারদেনায় সংসার চালাচ্ছেন তারা।
শনিবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানাগেছে, সবজিতে বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে এই সপ্তাহে অপরিবর্তিত আছে মুরগি ও মাংসের দাম। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি, দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজিতে। পটল ৫০ টাকা কেজি, লাউ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, কচু ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০, করোলা ৪০, শশা ৫০ টাকা, বরবটি ৫০, সজনে ৫০, ঝিঙে ৫০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, ভারতীয় ৭০ টাকা, আদা ২২০, রসুন দেশি ২২০, ভারতীয় ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময় আগে বেগুন কিনতাম ২০ টাকা কেজিতে, আজ কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকায়! কবে আবার আগের দামে কিনতে পারবো? সবকিছুর খরচ বেড়েছে, তাই উৎপাদন খরচও বেড়েছে তা জানি। কিন্তু ৮০ টাকা কেজি হওয়ার কথা না।’
বিক্রেতা রাসেল বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আমার কেনাই আছে ৬২ টাকা। আনতে খরচ হয়, আবার নষ্ট বের হয়। তাই আমাকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার শুনছি, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে খরচ বেড়েছে।
বাজারে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজিতে। সোনালী মুরগি প্রতিকেজি ২৮০ টাকা, দেশি মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজিতে। এছাড়া পাতিহাঁস পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি। এছাড়া মুরগির লাল ডিম ৫২ টাকা হালি, সাদা ডিম ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংস ও মাছের দাম। এই সপ্তাহে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১০০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। বাগদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকা, চিংড়ি মাঝারি ১৩০০ টাকা, প্রতিকেজি পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা কেজি, শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা, পাঙাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, চাষের কই প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, দেশি কই ৬০০ টাকা, বড় তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ১৫০, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকা, কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শালবাগাওে বাসিন্দা সেফালী বেগম। অসুস্থ স্বামী কোনো কাজ করতে পারেন না। দুই মেয়েসহ চার জনের পরিবারের যাবতীয় চালান সেফালী বেগম। তিনি দুই বাসায় ঝিয়ের কাজ করে যা পান তা দিয়েই টেনেটুনে চলছে সংসার। বাজারের দ্রব্যমূল্য বাড়ায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে কেনাকাটায়। তিনি বলেন, আগে মাঝে মধ্যে পাঙ্গাস ও ব্রয়লার মুরগি কিনতে পারতাম, এখন তাও সম্ভব নয়। গরিবের আমিষ খ্যাত ব্রয়লার পাঙ্গাসের কেজি এখন ২৪০-২৬০ টাকা।
নওদাপাড়ার একটি অফিসে চাকরি করেন কামারুজ্জামান। তিনি একটি বেসকররি কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, বেতন ২০ হাজার টাকা পাই। কিন্তু হিসাবের যেন কুলকিনারা মিলছে না। আগে এক হাজার টাকায় যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যেত এখন তার অর্ধেকও পাওয়া যায় না। বড়বনগ্রাম এলাকার জাকারিয়া বলেন, রিকশা চালিয়ে যা পাই তা দিয়ে আগে তিন বেলা ভালোভাবে খেতাম । এখন খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি। খাবারের যেই দাম…
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ বলেন,‘আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতিতে জনগণ অসহায় হয়ে পড়েছে। এর একটি প্রভাব ইতোমধ্যে জনজীবনে পড়েছে এবং সেটি অবশ্যই আরও বাড়বে। যেমন সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে। ভোগ ব্যয় কমবে এবং ভোগ্য পণ্য কম ব্যবহার করে তারা বঞ্চিত হবে। জীবনযাত্রার মান কমে যাবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category