• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

আজ উপকূলীয় বাসীর দুঃখভরা বেদনা বিধুর স্মৃতিবহ-স্মরণীয় দিন ভয়াল সেই ২৯ এপ্রিল: দোয়া-মোনাজাতে স্মরণ করার প্রস্তুতি হারানো প্রিয় জনদের

দিনকাল বিডি / ১০৭ Time View
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: উপকূলীয় বাসীর কাছে ২৯ এপ্রিল এক দুঃসহ বেদনা বিধুর স্মৃতিবহ স্মরণীয় দিন।
১৯৯১ সালের এই দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চল সহ উপকূলীয় এলাকায় ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিলো উপকূলের প্রায় সব জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গিয়েছিলো বিস্তীর্ণ এলাকা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোর মধ্যে ছিলো চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলে বসবাসকারী মানুষরা। যেখানে প্রাণহানি হয় প্রায় ৩০ হাজার নারী-পুরুষ ও ছোট বাচ্চাদের।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সাথে ছিলো প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিলো প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকা।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা ও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর এলাকায় নোঙর করা ক’টি জাহাজ নোঙরের তার ছিড়ে বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ে পড়ে । সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমান বন্দর এলাকায় থাকা ক’টি উড়োজাহাজের ও। জলোচ্ছ্বাসে অনেক সদস্য পরিবার সহ আটকা পড়েন, হারিয়ে ফেলেন প্রিয়জনকে।

যে স্মৃতি এখনো অনেক পরিবার গুলোর ক্রন্দনের সৃষ্টি করে চলেছে।
সে’দিন রাত ১০টার পর হঠাৎ-ই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।
৩৪ বছর পেরিয়ে গেলে ও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজ ও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে তাদের বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্য ও পাননি।

সে সময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলে ও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। আর তাতেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় তাদেরকে।
আজকের দিনটি স্মরণে উপকূলীয় অঞ্চলে অনেকেই পরিবারের হারানো সদস্যদের জন্য দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category