আব্দুল হামিদ মিঞা,বাঘা(রাজশাহী):
‘মধুমাস’ খ্যাত জ্যৈষ্ঠ আসতে এখনও কয়েকটা মাস বাঁকি। জাতীয় ফল কাঁঠাল পাকে জ্যৈষ্ঠ মাসে । শীতের শেষে গাছে আসে মুচি। তবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ধনদহ গ্রামের লিয়াকত আলীর গাছে এখনও ঝুলছে কাঁঠাল। খেতেও সুস্বাদু। অসময়ের এ কাঁঠাল দেখতে ও স্বাদ নিতে তাই অনেকে যাচ্ছেন তাঁর বাড়ি। তারা কাঁঠালটির গুণাগুণ জানা এবং চারা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
মৌসুম শুরুর আগেই আগাম কাঁঠাল ধরেছে গৌরঙ্গপুর গ্রামের ইউনুস আলীর কাঁঠাল গাছেও। ৬৬ বয়োসার্ধ লিয়াকত আলী জানান, এটা বারোমাসি জাতের কাঁঠাল নয়। গত কয়েক বছর ধরে মৌসুমে আসা কিছু কাঁঠাল শীত পর্যন্ত থাকছে। এ বছর গাছটিতে ধরা অর্ধশতাধিক কাঁঠালের একটি এখনও আছে। সেটির ওজন ১০ কেজির বেশি হতে পারে।
গাছটি সম্পর্কে তিনি জানান, তাঁর বয়স যখন ১৬-১৭ বছর, নানার লাগানো একটি কাঁঠালগাছ কাটার আগে বীজ সংগ্রহ করে ৪-৫টি চারা লাগিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুটি চারা বাঁচে। সেই গাছের কাঁঠাল এখন শীতের শেষেও থাকছে। আকারভেদে একেকটি কাঁঠাল ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে তিনি বিক্রি না করে এখন নিজে ও আত্মীয়স্বজন মিলে কাঁচা-পাকা খান। এবারের মৌসুমেও মুচি আসতে শুরু করেছে।
পাশের অমরপুর গ্রামের টিপু মন্ডল বলেন, এ গাছের কাঁঠাল মিষ্টি কিছুটা কম হলেও খেতে বেশ মজা। বীজ থেকে তিনি দুটি চারা রোপণ করলেও মারা গেছে। আবারও চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণের ইচ্ছা আছে।
গৌরঙ্গপুর গ্রামের ইউনুস আলী জানান,১৯৬৪ সালে বিনিময় করে এই গ্রামে আসার পর থেকে দেখছেন মৌসুম শুরুর আগেই আগাম ফল ধরছে তার কাঁঠাল গাছটিতে। এই কাঁঠাল খেতেও অনেক সুস্বাদু। খাওয়ার সময় কচকচ শব্দ করলেও হাতে বা মুখে কোনো আঠা লাগে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল¬াহ সুলতান বলেন, তাঁর উপজেলায় এমন কাঁঠাল গাছের বিষয়টি নজরে ছিল না। খোঁজ নিয়ে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেবেন।
বিএআরআই গাজীপুরের ফল বিভাগের উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জিল¬ুর রহমান অসময়ের কাঁঠাল প্রসঙ্গে বলেন, কাঁঠাল আহরণের সময় এখনও আসেনি। বারোমাসি কিছু কাঁঠাল অবশ্য সারাবছর পাওয়া যায়। তবে দেশীয় জাতের গাছে এক মৌসুমের কাঁঠাল আরেক মৌসুমে থাকার ঘটনা খুবই বিরল। গাছের বয়স বেশি হলে এমনটা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কাঁঠালের অসংখ্য জাত রয়েছে। তবে বেশির ভাগেরই নাম নেই। দেশীয় এসব গাছ নিয়ে গবেষণা করে বারোমাসি উন্নত জাত তৈরি করতে পারলে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। দেশের মানুষও অসময়ে রসালো এ ফলের স্বাদ নিতে পারবে।
তিনি আরো জানান, এদেশে চাষকৃত জাতগুলোকে ধরনের উপর ভিত্তি করে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যথা খাজা বা শ্যাওলা (শাঁস শক্ত ও কচকচে।) গালা বা রসা(শাঁস অত্যন্ত নরম ও রসালো)। এবং দো-রসা বা আধারসা(শাঁস মাঝারি শক্ত ও রসালো)। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি কাঁঠাল-১ (আগাম জাত) বারি কাঁঠাল-২ (অমৌসুমী জাত), বারি কাঁঠাল- ৩(বারোমাসি জাত),বারি
কাঁঠাল-৪(মৌসুমী জাত), বারি কাঁঠাল-৫ (অমৌসুমী জাত), ও বারি কাঁঠাল ৬ নামে কাঁঠালের ছয়টি উন্নত জাত কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য মুক্তায়িত করেছে। বারি কাঁঠাল-৬ (বারোমাসি জাত)। এটি রপ্তানি উপযোগী। বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষযোগ্য ও নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল।