• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের দায়ের আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর নওগাঁয় যমজ নবজাতকের একজনের সন্ধান না পাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ নওগাঁর আত্রাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত নওগাঁর মহাদেবপুরে সন্তানকে শাসন করায় শাশুড়ির বকাঝকা; অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা মহাদেবপুরে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান; দুই লাখ টাকা জরিমানা বাঘায় মাজারের গ্রীল কেটে ও গোরস্থানের দান বাক্স ভেঙ্গে টাকা চুরি! নওগাঁর মান্দায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে রাজশাহীতে আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নাচোলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত পার্বতীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহিত দিবস পালিত,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

খানজাহান (রহ:) মাজার সংলগ্ন দিঘির মৃত কুমিরের দাঁত উধাও !

দিনকাল বিডি ২৪ / ২৪৪ Time View
প্রকাশঃ রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি||
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ:) মাজারসংলগ্ন দিঘির কুমিরের মৃত নিয়ে চলছে নানান গুঞ্জন। দিঘির কুমিরের মৃত্যু নিয়ে খাদেম, ফকির ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। চেতনা নাশক ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দীর্ঘদিন এক পাড়ে আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। আবার কেউ কেউ বলছেন, দিঘিতে ফাঁস জাল পেতে মাছ দিয়ে মাছ ধরার কারনে ঐ ফাঁস জালে আটকে কুমিরের মৃত্যু হতে পারে।
তবে মাজারের দিঘির কুমিরের মৃত্যুর কারন উৎঘাটনের আগেই, মৃত কুমিরের দাঁত উধাও হওয়ায় জনসাধারনের মাঝে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।
মৃত্য কুমির দাফনের আগে ও দাফনের সময় কুমিরের মূল্যবান দাঁত নিয়ে গেল কথিত খাদেমরা । এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারন ও ফকিরদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হযেছে। কেউ বলছে মৃত কুমিরটির দাঁত এভাবে নেওয়া ঠিক হয়নি। আবার কেউ বলছে, কুমিরের মৃত্যু হওয়ার কারনও উদঘাটন সঠিক ভাবে হবে না ?
একটি সুত্র জানায়, কুমিরের দাঁতের মুল্য অনেক বেশী। এই দাঁত দিয়ে আংটি তৈরী হয়। মোটা অংকের টাকায় কুমিরের দাঁত বিক্রি হয় ।
এদিকে নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ব্যক্তি আক্ষেপ করে সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে মৃত কুমিরটিকে দিঘি থেকে টেনে তোলেন তাছিন, জামাল ও নিজাম । দিঘি থেকে টেনে তোলার সময় মাজারের খাদেম শানো ফকিরের ছেলে তাছিন কুমিরের একটি দাঁত তুলে নেয় এবং পরে কুমিরটি দাফনের সময় হামিম ও তাছিন কবরের মধ্য থেকে আর একটি দাঁত খুলে নেয়।এদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
কবর খোচার সহযোগি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মৃত কুমিরটি দাফন দিতে কবর রাখার সময় আমি দাঁত ভাঙ্গার শব্দ পেয়েছি। পরে আমি তাছিনের কাছে চারটি দাঁত এবং দিঘির পার্শবর্তী ফারুক শেখের ছেলে হামিম শেখের কাছে দেখেছি দুইটা দাঁত। ইয়াছিন আরাফাত আরো বলেন, হামিম তার দুলাভাইয়ের কাছে একটি দাত ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করার কথা ।
হামিম শেখ বলেন, আমি ঘাটে গেলে জামাল ফকির বলেন,কুমিরটি দাফন দেয়ার জন্য কবর খোরতে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা কবর খুরে কুমিরটিকে কবরে নামাতে গেলে তখন তাছিন কুমিরটির মুখের মধ্যে দড়ি বেধে টেনে এনে কবরে নামান, এ সময় দড়িতে বেধে একটা দাঁত মাটিতে পরে যায়। সে দাতটি তাছিন আমার কাছে রাখতে বলে। পরে সে দাতটি তাছিন নিয়ে যায়। পরে সে দাতটি মাজারের প্রধান খাদেমের কাছে জমা দিয়েছে বলে আমি শুনেছি।
তারা আরো বলেন, দিঘির মধ্যে ফাঁস জাল পেতে মাছ ধরার কারনে এই কুমির মারা যেতে পারে। বিগত দিনেও ফাঁস জালে বেধে ৯ টি কুমির মারা গেছে। তার কোন বিচার হয়নি। যার জন্য দাউদ ও সালামের মত মানুষেরা প্রতিনিয়ত দিঘিতে ফাঁস জাল পেতে মাছ ধরতে গিয়ে এই কুমিরটিও মারা যেতে পারে। তারা আরো বলেন, দাউদ ও ছালাম কে প্রশাসন জিজ্ঞাসাবাদ করলে কারা তাদের দিয়ে ফাঁস জাল পাতায় তার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
মাজারে প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন,কুমিরটি কবরে নামানোর সময় দুইটিা দাত খুলে পরেছে তাই আমি শুনেছি। আমার কাছে কোন দাঁত জমা হয়নি।
উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দিঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোনো কুমিরটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, মাজার কর্তৃপক্ষ, খাদেমসহ দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন দিঘীর ঘাটে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের নির্দেশে দিঘি থেকে কুমিরের মরদেহটি দিঘির উত্তর পাড়ে কুমিরটিকে তোলা হয়েছে।
কুমিরটির মৃত্যুর নিয়ে খানজাহান (রহ:) মাজার এর প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, কুমিরটি দীর্ঘ ৮ মাস মোস্তফা খাদেমের পুকুরে ছিল মোস্তফা কুমিরকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করায় কুমিরটি মারা যেতে পারে।
প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর, খুলনা‘র পরিচালক ডা: মো: লুৎফর রহমান বলেন,কুমিরের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য কুমিরের দেহের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেতে আনুমানিক দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তখন মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, কুমিরটির মৃতুর কারন অনুসন্ধানের জন্য প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর কে বলা হয়েছে তারা ইতোমধ্যে কুমিরের দেহের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে রিপোট আসলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
সুলতানী শাসন আমলে খ্রিস্টীয় ১৪ শতকের প্রথম দিকে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) বাগেরহাটে ‘খলিফতাবাদ’ নগর বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় তিনি এই অঞ্চলে ৩‘শ ৬০ দিঘী খনন করেন। এর মধ্যে সব থেকে বড় ‘ঠাকুর দিঘি’। যে দিঘীর পাড়ে তার সমাধী রয়েছে। এই দিঘীতে তিনি দুটো মিঠাপানির প্রজাতির কুমির ছেড়ে ছিলেন। যাদের নামছিল ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’। খানজাহান (রহ) এর মৃত্যুর পর মাজারের খাদেম ও ভক্তরা ওই কুমির দুটিকে নিয়মিত খাবার দিতেন। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওই কুমির যুগলের বংশ ধরেরা এখানে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় মারা যাওয়ার কারণে কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়ের বংশ ধরেরা শঙ্কায় পড়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দিঘির কুমির ‘কালা পাহাড়’ এবং ২০১৫ সালে ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরটি মারা যায়। ধলা পাহাড় নামক কুমিরটির চামড়া বাগেরহাট যাদু ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
এরই মাঝে মাজারে কুমিরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোটাইল ব্যাংক থেকে ৬টি কুমির এনে মাজারের দিঘিতে ছাড়া হয়। নিজেদের মধ্যে মারামারি করে দুটি কুমির মারা যায়। দুটি কুমির সুন্দরবনের করমজলে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট দুটি কুমির এতদিন এই মাজারের দিঘিতে ছিল। এদের মধ্যে নারী কুমিরটি কয়েকবার ডিম পাড়লেও, কোন বাচ্চা ফোটেনি। সব শেষ বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে পুরুষ কুমিরটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে প্রশাসনের নির্দেশে কুমিরটিকে উপরে তোলা হয়। পুরুষ কুমিরটি অস্বাভাবিক মৃত্যুতে নারী কুমিরটি সঙ্গি হারা হয়ে পড়ল। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category