• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম শিক্ষক হিসেবে, আর যতো-ই দিন গেলো দেখছি যেনো ছাত্র হয়ে গেছি .চবি’র সমাবর্তনে ড. ইউনুস

দিনকাল বিডি / ৯৮ Time View
প্রকাশঃ বৃহস্পতিবার, ১৫ মে, ২০২৫

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষার্থীদের নতুন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নতুন বিশ্ব গড়ার সক্ষমতা আমাদের আছে, যেটা আমরা গড়তে চাই। তিনি বলেন, এ পৃথিবীর ভবিষ্যত আমাদের প্রত্যেকের হাতে। আমরা যেভাবে বিশ্বকে গড়তে চাই সেভাবেই বিশ্ব গড়তে পারি। আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে গড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমি আমার কথাটা বলে যাচ্ছি। অন্যরা তাদেরটা বলবে। কিন্তু নিজের মনের একটা স্বপ্ন থাকতে হবে এটাই আমার আবেদন। আমি কী ধরনের বিশ্ব চাই, কী ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চাই, কী ধরনের সমাজ চাই, কী ধরনের দেশ চাই– সবকিছু নিয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে একটা স্বপ্ন থাকতে হবে। কিন্তু স্বপ্ন না দেখে গর্তের মধ্যে ঢুকে গেলাম, যা আছে মেনে নিলাম, তাহলে কিছুই পাল্টাবে না, কিছুই পরিবর্তন হবে না।
হাটহাজারীর জোবরা গ্রামের মহিলাদের কাছ থেকে নতুন অর্থনীতি শিখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সেই হিসেবে জোবরা তাঁর কাছে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে বলে জানান। তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত যা কিছু করে যাচ্ছি, এই জোবরা থেকে যা শিখেছি তারই বহিঃপ্রকাশ। ড. ইউনূস বলেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম শিক্ষক হিসেবে। ক্রমে যতোই দিন গেল দেখলাম ছাত্র হয়ে গেছি। আমি আর শিক্ষকতার ভূমিকায় নাই। ক্রমাগত শিখছি। জোবরার সইজ্জাপাড়া ও দেওয়ান নগরে যে মহিলারা আছে, তারাই আমার শিক্ষক হলো। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। আমার ছাত্র–ছাত্রীরা তারা আমার সঙ্গে ছিল। আজকে অনেকে উপস্থিতও আছে। যারা মহিলাদের কাছে আমাকে নিয়ে গেল তাদের থেকে পাঠদান নেয়ার জন্য।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, আমি অবাক হয়ে গেলাম। যা ক্লাসরুমে পড়ায় তার সাথে কিছুই মিল নাই। যে কাজে হাত দিলাম সেটা মহিলাদের কাছে ক্রমেই পছন্দের জিনিস হলো। যাদের হাতে টাকা দিলাম, ঋণ দিলাম ৫ টাকা, ১০ টাকা যে মানুষের জীবনে এতরকমের আনন্দ আনতে পারে, তা কোনোদিন ভাবি নাই। তারা কৃতজ্ঞতায় গদগদ। আমি কোনো মাগনা টাকা তাদেরকে দিচ্ছিলাম না। তাদেরকে বলেছি এই টাকা কাজ করে রোজগার করবেন, আমাকে ফেরত দিবেন। তাতেও খুশি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমার সমস্ত কিছুর বীজ বপন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসময় জোবরা গ্রাম; যেখান থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু করেন সেটাকেও তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবহিত করেন। তিনি বলেন, সেজন্য আমি জোববার কাছে কৃতজ্ঞ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কৃতজ্ঞ।
বিশ্ববরেণ্য এ শিক্ষক আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষকতার সময়ে উৎসাহ সহকারে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময়ে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ হলো। মানুষের কষ্ট দেখে মনে খুব কষ্ট পেলাম। আমি ভাবলাম, সারা দেশের দুর্ভিক্ষ দূর করতে পারবো না, তবে জোবরার কিছু মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারি। এ ভাবনা থেকেই শুরু হলো আমার জীবনের আরেক অধ্যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা বলতে শুরু করলাম, ঋণ মানুষের মানবিক অধিকার। দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাবো। আমরা এ ধারণা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি এবং সফল হই। আমাদের প্রবর্তিত নতুন অর্থনৈতিক মডেল জোবরার অর্থনীতি ব্যবসায়ের অর্থনীতি নয়, বরং মানুষের অর্থনীতি। যে শিক্ষা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায় না, তা আমাদেরকে ধ্বংস করবে। তাই নতুন শিক্ষাপ্রাপ্তদের থেকে আবিষ্কার করার প্রবণতা আয়ত্ত করতে হবে, নতুন নতুন ধারণা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
ড. ইউনুস বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যখন পরিচয় দেয়, তখন হয়ত বলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। গৌরব করে। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও গৌরববোধ করে যে, আমি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছিলাম। আমি তাদেরকে বলি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব করার কারণ বড় দুইটা, তোমাদেরটা একটা। দুইটা এজন্য যে, নোবেল পুরস্কারের গোড়াপত্তন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহচর্যে। সেজন্য এই গৌরববোধ আমি শুধু শিক্ষক ছিলাম না, ওর পাশের গ্রামের ছাত্রও ছিলাম। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে লেখা আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে তার জন্ম। সেটা স্পষ্ট উল্লেখ আছে। আর গ্রামীণ ব্যাংকও নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। কাজেই দুইটি নোবেল পুরস্কারের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্র–ছাত্রীদেরকে জানাতে পারে তার ইতিহাস কি? এর প্রাসঙ্গিকতা ও ভবিষ্যত করণীয় নির্ধারণে তারা ঠিক করবে, তারা কি ধরনের ভবিষ্যতে চায় তাদের জন্য।
ড. ইউনূস বলেন, সকল মানুষ অভাব দূর করার জন্য চেষ্টা করে। তবে উপযুক্ত শিক্ষা না থাকলে অভাব দূর করা সম্ভব নয়। তাই সকলের জন্য শিক্ষা লাগবে। তিনি চবির সমাবর্তী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তোমরা সফলভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করেছো। এখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এ অধ্যায়েও তোমাদের সফল হতে হবে। বহু বছর পরে ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে পেরে এবং তোমাদের সাথে দেখা করতে পেরে আমি আনন্দিত। পরিশেষে তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের পাঠদান ও গবেষণার পদ্ধতি মনের মতো করে সাজাতে হবে। বিশ্ব গঠন করা আমাদের হাতে। আমাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী বিশ্বটাকে গড়তে হবে। চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াহ্‌ইয়া আখতারের সভাপতিত্বে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, দলীয় রাজনীতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে যেন কলুষিত না করে। রাজনীতি করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়ে রাজনীতি করুন। শিক্ষকতায় থাকলে শিক্ষার্থীদের বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করুন। জাতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পালন করছি কিনা তা নিজের কাছে নিজে প্রশ্ন করুন। শিক্ষার উন্নয়নে আপনাদের যে কোনো প্রস্তাব নিয়ে আমার কাছে আসবেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের ত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাদের স্বপ্ন পূরণে উদারভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, শিক্ষার্থীদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমাদের এ অর্জনকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বমানের নাগরিক তৈরির জন্য উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে এ দেশকে গড়তে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category