নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন
চরাঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ খেয়াঘাট ইজারাদারদের কাছে জিম্মি
হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পারাপারের জন্য নৌকা ও
মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়ার পরও যাত্রী, মালামাল ও গরু পারাপারে
অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চরবাসী।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর
আষাড়িয়াদহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর আলাতুলি ইউনিয়নসহ পবার
হরিপুর, হরিয়ান এবং বাঘার বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ৬৫ হাজার
মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম
খেয়াঘাট। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ঘাট ইজারার নামে অতিরিক্ত
টাকা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা ছাড়াও
মালামাল ও গরু পারাপারে ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া
হয়। বিশেষ করে কোরবানির হাটে গরু নেওয়ার সময় টাকা না দিলে
ভারতীয় গরু বলে বিজিবিকে দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়
বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মঙ্গলবার বাঘার চর চৌমাদিয়া হয়ে কুষ্টিয়ার বাংলা বাজার চরে
গিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজশাহীর সীমান্তবর্তী ঘাটে
মোটরসাইকেলপ্রতি ১০০ টাকা, যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা এবং
মালামালের জন্য আলাদা টাকা নেওয়া হচ্ছে। যাতায়াত ও নৌকা ভাড়া
মিলিয়ে একজনের নদী পারাপারে প্রায় ৩২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল বলেন, স্বাধীন দেশে চলাচল করতেও যদি
মানুষকে এভাবে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হয়, তাহলে
নাগরিকদের বসবাসের অধিকার কোথায়?
এদিকে আষাড়িয়াদহ ছাত্র-কর্মজীবী জোটের উদ্যোগে
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে খেয়াঘাটের
ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা
হয়, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ, শিক্ষা ও
চিকিৎসার একমাত্র ভরসা খেয়াঘাট। অথচ ইজারার নামে অতিরিক্ত
টাকা আদায় করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হচ্ছে।#