• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে মারপিট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আহত ২, থানায় এজাহার মোঃ আশরাফুল আলম রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার -৬ রাজশাহী নগরীতে জুয়া খেলা অবস্থায় ১০ জুয়াড়ি গ্রেফতার নওগাঁর আত্রাইয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর আত্রাইয়ে পরিদর্শন কক্ষের শুভ উদ্বোধন করলেন এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু ইসলামপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড রাণীনগরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৭০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা নওগাঁর মান্দায় সিএনজির ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু মান্দায় ভীমরুলের চাক পোড়াতে গিয়ে বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ড সাপাহারে কৃষিজমিতে অবৈধ ইটভাটা: লাখ টাকা জরিমানাসহ মুচলেকা আদায়

জমির ভুয়া দলিল বাতিলের মামলা ও প্রতিকার ।

দিনকাল বিডি / ৩০৬ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ২২ মে, ২০২৩

‌মোঃ এনামুল হক: জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধমে কোনো জমির দলিল সম্পন্ন করে মালিকানা দাবি করা এবং মূল মালিককে দখলচূত করার মত ঘটনা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী এর প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ জানেনা কিভাবে এবং কখন জাল দলিল এর বিরুদ্ধে মামলা কিম্বা প্রতিকার দাবি করবেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিকার আশা করা গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কিছু দাপটে লোক, সন্ত্রাসী বা টাউট এর খপ্পরে পরে প্রতারিত বা অনেকে সর্বস্ব হারানোর ঘটনাও কম নয়।
বাংলাদেশে প্রচলিত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো দলিল বাতিল বা বাতিল যোগ্য বলে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। এই আইনে বলা হয়েছে যে, কোনো বেক্তি, যার বিরুদ্ধে লিখিত দলিল বাতিল বা বাতিল যোগ্য যা বলবত থাকলে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন অবস্থায় তিনি তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতার বলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্ত হিসেবে বাতিল করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
এই ধারা অনুযায়ী প্রতিকার পেতে হলে যে বিষয় গুলো প্রমান করতে হয় তা হলো :
১. দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য
২. দলিলটি বাতিল না হলে বাদীর অপূরণীয় ক্ষতির আশংকা
৩.আদালত ন্যয় বিচারের স্বার্থে তা বাতিল করতে সক্ষম
জমির মুল্য বাবদ নির্দিষ্ট এখতিয়ারাধীন আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়, তবে ৪২ ধারা অনুযায়ী ঘোষণা মূলক মামলা দায়ের করা হলে ৩৯ ধারার বিধান আমলে আসেনা। কারণ ঘোষণা মূলক মামলার ক্ষেত্রে ৩৯ ধারার প্রতিকারের কারণ গুলো চলে আসে। বাদী যদি কোনো সম্পত্তি দখলে থাকা কালীন বিবাদী কর্তিক বা অন্য কোনো মাধ্যমে সত্ব দখল বিহীন অবস্থায় কোনো দলিল সম্পাদন করে প্রতারনার আশ্রয় নেয় তাহলে বাদী সরাসরি ৩৯ ধারা মতে দলিলটি বাতিলের আদেশ চাইতে পারে। এ ক্ষেত্রে দলিলের মুল্য বাবদ এডভোলেরাম কোর্ট ফী জমা দিতে হবে।
অপর দিকে বাদী নালিশী দলিলের বিরুদ্ধে অকার্যকর, তন্চকি, বাদীর উপর বৈধ নয় মর্মে ঘোষণা চাইলে মামলাকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত কোর্ট ফী প্রদান করতে হয়।
বাদী যদি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বেদখল হয় তাহলে ৮ ধারা অনুযায়ী সত্ব সাব্যস্তে খাস দখলের মামলা করতে পারে এবং আর্জির প্রার্থনায় দফায় দলিলটি বাতিল চাইতে পারে। এর সঙ্গে ৪২ ধারায় পৃথক ঘোষণাও চাইতে পারে। এতে অতিরিক্ত চুক্তি কোর্ট ফী প্রদান করতে হয়।

লেখক: মোঃ এনামুল হক
আইনজীবী, আইন বি‌শ্লেষক ও গ‌বেষক ।
‌মোবাঃ ০১৭১২৩৭৬৪৬৮


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category