নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁর মান্দায় ইয়াছিন আলী নামে এক মুদি ব্যাবসায়ীর গুদাম ঘর নির্মাণের জন্য রাখা ইট চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৬ নং মৈনম ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে দূর্গাপুর গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম (৪০), হারুন মন্ডল (৩৫), ইদ্রিস আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৮) এর বিরুদ্ধে শুক্রবার বিকেলে মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যাবসায়ী ।
দূর্গাপুর গ্রামের মৃত বছির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে ভুক্তভোগী ইয়াছিন আলী জানান, পেশায় তিনি একজন মুদি ব্যাবসায়ী। ব্যাবসার মালামাল রাখার জন্য তার একটি গুদাম ঘরের প্রয়োজন হওয়ায় পার্শ্ববর্তী গণেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মৌজার ৭৮৫ ও ৭৮৬ নম্বর খতিয়ানে ৪২৭ নম্বর দাগে ২১ শতাংশ এর সংলগ্ন পাকা রাস্তার সাথে গুদাম ঘর নির্মাণ করার জন্য গত ২৩ আগস্ট মেসার্স আল আমিন ব্রিকস,জলছত্র মোড় থেকে ৬ হাজার ইট ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করে উক্ত জায়গায় রাখেন। কিন্তু ওইদিন রাতেই দূর্গাপুর গ্রামের খায়রুল ইসলাম গংরা তার ক্ষতি সাধনের জন্য রাতের অন্ধকারে সে ইটগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে শ্রীরামপুর মৌজার ওই জমিতে গিয়ে দেখেন যে তার রাখা ইটগুলো আর ওই জায়গায় নেই। পরবর্তীতে তিনি এবং তার পরিবারের লোকজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা-খুঁজির একপর্যায়ে দূর্গাপুর গ্রামের আলতাব হোসেন নামে একজন জানান যে, একই গ্রামের আব্দুল লতিফ আকন্দের খলিয়ানে গত ২৩ আগস্ট রাত আড়াই টার দিকে অজ্ঞাত একটি ভুটভুটিতে করে প্রায় ২ হাজার ইট ফেলার সময় সাক্ষী দূর্গাপুর মৃত মনির আকন্দের ছেলে আব্দুল লতিফ আকন্দ (৫২) ও মৃত সমতুল্যা মন্ডলের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৬৫) এবং মোখলেছ এগিয়ে এসে বিবাদী খায়রুল ইসলাম গংদের উক্ত ইটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান যে,রাস্তার বেহাল দশার জন্য ইটগুলো তারা সেখানে রেখেছেন বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনের ধারণা যে, বিবাদীর আরো ৪ হাজার ইট চুরি করে অন্য কোথাও গোপন করে রেখেছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের সকলের বিচার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে খায়রুল ইসলাম বলেন, বিবাদমান জমিটি তারা ৫৪ বছর যাবৎ ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার জমিতে জোরপূর্বকভাবে ঘর নির্মাণের জন্য ইটগুলো রাখায় সেগুলো বাড়িতে নিয়ে চলে গেছেন। এতে তার যা হয় হবে। তিনি কাউকে ভয় পান না।থানা পুলিশ তার কিছুই করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।