মোঃ কামরুজ্জামান বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটর মোংলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শিক্ষক ও উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মোংলা উপজেলায় ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হওয়া প্রায় ২ কোটি টাকা । এসব কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা দীর্ঘদিন লুটপাটে ব্যস্ত থাকায় ভেঙে পড়েছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্যক্রম।
জানাযায়, গেল জুন মাসে মোংলা উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংস্কার, ক্রীড়াসামগ্রী ক্রয় ও ¯িøপের মাধ্যমে মালামাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্ধ হয় প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি। সংস্কার কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিবাবক শাজাহান সিদ্দিকি, স্কুল কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, প্রথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দের টাকা নামমাত্র কিছু খরচ করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বাকী টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন সদ্য বদলি হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুমন্ত কুমার পোদ্দার, এটিও পুস্পজিৎ মন্ডল, মোংলা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী লাবিব হোসেন ও বরাদ্ধ পাওয়া স্কুল প্রধান শিক্ষকরা।
সরেজমিনে কয়েকটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে কোনো কাজ করা হয়নি ভবনগুলোতে। সরকারি বরাদ্দের টাকায় কী কাজ করেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে চিলা বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃক মন্ডল জানান, তিনি কাগজ না দেখে বলতে পারবেন না। কাগজ চাওয়া হলে বলেন, ফাইলটি তার বাসায় রয়েছে।
অন্যদিকে ফেলুর খন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গায়েত্রী রাণী রায় বলেন, কী কাজ হয়েছে এসব তিনি জানাতে পারবেন না। বার বার জানতে চাওয়া হলে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী লাবিব হাসান স্বাক্ষরিত কাজ সম্পন্ন করার একটি প্রত্যায়ন বের করে দেন। আর বলেন, কাজ না করলে প্রত্যায়ন কি করে পেলেন ? এ ছাড়া অধিকাংশ প্রধান শিক্ষক বলতে পারছেন না তারা বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে কি কাজ করিয়েছেন। তবে কাজের কথা বলতে না পারলেও জানালেন তাদের কাছে রয়েছে কাজ সম্পন্ন করার প্রত্যয়ন পত্র।
এবিষয় মুঠোফোনে মোংলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুমন্ত কুমার পোদ্দার জানান, কাজ হয়েছে কি হয়নি এটি দেখার দায়িত্ব উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের। তাই মোংলা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পেয়ে টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রত্যয়ন দেওয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী লাবিব হোসেন জানান, তিনি কোনো প্রত্যয়ন দেননি। তার দাবি, যেসব প্রত্যয়ন দেখানো হচ্ছে তা জাল।
বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ শাহ আলম জানান, দীর্ঘদিন এক কর্মস্থলে থাকার কারণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না। নানা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোংলা সহকারী শিক্ষা অফিসারকে বদলির জন্য বারবার লিখিত আবেদন দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। উপজেলার ১৭ জন প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নিয়ে বদলীর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয় কিন্তু ওইসব সুপারিশ আজও আলোর মুখ দেখেনি। এর ফলে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ ৮/১০ বছর মোংলায় কর্মরত রয়েছে সহকারী শিক্ষা অফিসার পুস্পজিৎ মন্ডল।
কোমলমতি শিশুদের গড়ে ওঠার প্রথম স্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর এ বিদ্যালয়গুলোকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকা বাসীর। #