রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মাঝেও নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ‘কৃষি জ্বালানি কার্ড’। ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহনের কাজে প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহে কৃষকদের এখন আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না। সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে উত্তরবঙ্গের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই জেলায় বোরো ধান ঘরে তোলার কাজ চলছে পুরোদমে
নওগাঁর প্রধান ফসল ইরি-বোরো ধান বর্তমানে সোনালী রঙ্গে মাঠজুড়ে দুলছে। এই ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সময় যেন জ্বালানি তেলের অভাব না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের জমির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে কৃষি জ্বালানি কার্ড প্রদান করছে। একজন কৃষকের ঠিক কতটুকু তেল প্রয়োজন, তা কার্ডে উল্লেখ থাকছে। এই কার্ড নিকটস্থ পাম্পে প্রদর্শন করলেই কৃষকরা সহজেই প্রয়োজনীয় তেল পেয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলার সিংগারপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক মুস্তাক আহমেদ জানান, “কার্ডের মাধ্যমে তেল পেতে ভোগান্তি নেই ঠিকই, কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান উৎপাদনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে ধানের ভালো দাম নিশ্চিত করা না হলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।” তিনি কৃষকদের খরচ বিবেচনা করে ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।রা
ণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃমোস্তাকিমা খাতুন চৈতি জানান, বোরো মৌসুমে সেচ ও ধান কর্তন নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ডের বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, “স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কৃষকদের জমি পর্যবেক্ষণ করে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পাম্পগুলোতে কৃষক ও বিশেষ শ্রেণির মানুষদের অগ্রাধিকার দিতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তেলের পাম্পগুলো নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন।”