মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় এক কলেজের অফিস সহকারী কাম- কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় প্রেগন্যান্সি টেষ্টের চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁস হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নে।
মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভূয়া প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট দিয়ে মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ধর্ষণ মামলায় কোন রকম তদন্ত ছাড়াই অতি উৎসাহী হয়ে পুলিশ গভীর রাতে এক ঘন্টার মধ্যেই মান্দা কারিগরি ও কৃষি কলেজের অফিস সহকারী কাম- কম্পিউটার অপারেটর ফজলে রাব্বিকে আটক করায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান,প্রসাদপুর ইউনিয়নের ইনায়েতপুর (মন্ডলপাড়া) গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে ফজলে রাব্বি (২৮)। পেশায় তিনি একজন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর। এর পাশাপাশি তার একটি পেয়ারা বাগান রয়েছে। চাকুরির পাশাপাশি তিনি পেয়ারা বাগান দেখাশুনা করতেন। অপরদিকে মামলার বাদি কুসুম্বা ইউনিয়নের ছোট বেলালদহ গ্রামের (মেডিকেল মোড় এলাকার) বাসিন্দা। বাদীর বাবা আকবর আলী পেশায় একজন করনিক (অবসরপ্রাপ্ত) ।
তিনি বড় বেলালদহ ফাজিল মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। বাদীর বাবা’র জন্মস্থান নওগাঁ’র মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে বলে জানা গেছে । সম্প্রতি ফজলে রাব্বি’র পেয়ারা বাগানে পেয়ারা নিতে গিয়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা শুরু করে আফিমা সুলতানা মিতু (২৮) নামে ওই নারী।
এসব প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আত্মসাতকৃত অর্থ দিয়ে বর্তমানে মেডিকেল মোড় (শ্মশানঘাটি) এলাকায় একটি তিন তলা বিশিষ্ট নিজস্ব ভবনে বিলাশবহুলভাবে জীবন যাপন করছে সে। ১৯৯৫ সালে জন্ম ওই প্রতারক নারীর। অপ্রাপ্ত অবস্থায় ২০০৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রথমে মান্দার প্রসাদপুরের শহিদুল ইসলামের ছেলে সামসুল আরেফিন ওরফে সুজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সে।
এরপর সেখান থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের কয়েক বছর পর নানা-মামা এবং খালার পরিচয়ে একের পর এক ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তার ব্যাপারে কেউ কিছু বললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকেন। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে পরবর্তীতে এসব ব্যাপারে কেউ সমঝোতা করতে চাইলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসতো সে। তার দাবিকৃত টাকা দিতে না পারলেই মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আত্মসাত করায় তার কাজ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়ার পর অভিনব কায়দায় একাধিক ছেলের কাছ থেকে সে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আর এ পর্যন্ত সে বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০ জনের অধিক ছেলেকে অভিনব কায়দায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার পর তাদের সকলকে সর্বশান্ত করে দিয়েছেন ওই নারী। একের পর এক এসব প্রতারণার ফাঁদে পড়ার পরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
এদের মধ্যে একজন জজ, কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন রয়েছেন। সম্প্রতি, ওই প্রতারক নারী প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসে ফজলে রাব্বি’র কাছে । পরবর্তীতে তার দাবিকৃত টাকা দিতে না পারার কারণে গভীর রাতে থানায় গিয়ে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই নারী। ওই মামলায় জেলে যেতে হয়েছে ফজলে রাব্বিকে। শুধু ফজলে রাব্বিই না এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চান অন্যান্য ভুক্তভোগীরা।
মামলার এভিডেন্স স্বরুপ গত ২৭ জুন যে প্রেগন্যান্সি টেষ্টের রিপোর্টের কপি দেয়া হয়েছে সেটার কোন তথ্য নেই আইডিয়াল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিকের রেজিষ্ট্্রার খাতায়। অপরদিকে ওই রিপোর্টে জাহিদ হাসান নামে যে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) এর নাম পদবী উল্লেখ করা হয়েছে তিনি ওই হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিকের কেউ না বলে জানিয়েছেন আইডিয়াল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিকের মালিক গ্রুপের পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তার দাবি যে, বর্তমানে যিনি ল্যাব টেকনোলজিষ্টের দায়িত্ব পালন করেন তার নাম আবু সাইদ। তিনি আরো জানান যে, গত কয়েকদিন আগে ঈদুল আজহার ছুটির সময় তারা সবাই ব্যাস্ত সময় পার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী আফিমা সুলতানা মিতু কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মান্দা থানার ওসি-তদন্ত মেহেদী মাসুদ বলেন, গত ১ জুলাই রাতে ওই নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করায় ফজলে রাব্বিকে তার বাড়ি থেকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।