• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

মান্দায় মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ

দিনকাল বিডি ২৪ / ৮৫৬ Time View
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দায় “মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন (৪৫) এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,দূর্ণীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে একাধিক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।

তিনি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গোবিন্দপুর গ্রামের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফসার আলীর ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হওয়ায় এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এসব বিষয় নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে ক্ষমতার অপব্যাবহার ও দাম্ভিকতা দেখিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি। ছেলে প্রধান শিক্ষক এবং বাবা আজীবনের জন্য সভাপতি হওয়ার কারণে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তার মত একজন বিতর্কিত শিক্ষককে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত না করার জন্য মান্দার সচেতন শিক্ষক সমাজের পক্ষে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ মোঃ আসলাম আলী নামে একজন ব্যাক্তি। অথচ, সে অভিযোগটি আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, “মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন একজন ফাঁকিবাজ ও দূর্নীতি পরায়ণ শিক্ষক। তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেখলেই পাওয়া যাবে। বছরের অধিকাংশ দিনই তিনি রাজশাহী, ঢাকা, নওগাঁসহ দেশের বাহিরে ঘুরাফেরা করেন। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বলার মতো নয়। কুকর্ম ঢাকতে ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন।

যা তার বর্তমান ২য় স্ত্রী হিসেবে রয়েছে। এছাড়াও তৎকালীন সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে ৪ জন কর্মচারী ও ১ জন সহঃপ্রধান নিয়োগ দিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকা অর্জন করে বিলাশবহুল একাধিক বাসা-বাড়ি, রাজকীয় অফিস, প্রাইভেটকারে চলাফেরা, অধিকাংশ সময় বিমানে যাতায়াত, একাধিক ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের পর বিয়ে করেও পার পেয়ে যান কিভাবে? তার খুঁটির জোর কোথায়? এমন বিতর্কিত মানুষকে সেরা নির্বাচিত না করার জোর দাবি জানান অভিযোগকারী। এরপরেও শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গত কয়েকবছর যাবৎ ধারাবাহিকভাবে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,সম্প্রতি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের এক মেধাবী শিক্ষার্থী (১৫+) এর সাথে প্রধান শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্কের পর (৪ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ায়) তাকে বিয়ে করার গুঞ্জন চলছে। ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি একই গ্রামের বাগদেওয়ান পাড়ায়। ওই শিক্ষার্থীর মা প্রধান শিক্ষকের ২য় স্ত্রীর বান্ধবী এবং বাবা পেশায় একজন সবজি (কাঁচা তরকারি) বিক্রেতা। শিক্ষার্থীর গ্রামের বাড়ি আর ওই শিক্ষার্থীর নানার বাড়ি একই জায়গায় বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান যে,মেয়েটি স্কাউটস এর সদস্য হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহনের কথা বলে নওগাঁ,রাজশাহী ও জয়পুরহাট নিয়ে যেতেন প্রধান শিক্ষক । এরই এক পর্যায়ে তাদের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু ভূক্তভোগী মেয়েটি গরীব পরিবারের হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ, বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির বাবা,মা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপর ওই প্রধান শিক্ষক মেয়েটিকে স্কুলে যেতে নিষেধ করেন। এমন পরিস্থিতিতে কোন প্রতিকার না পেয়ে বিব্রতবোধ করছেন মেয়েটির পরিবারের লোকজন। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এমতাবস্থায় সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষ লম্পট প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করেন স্থানীয়রা।

বিয়ের আগেই ৪ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা এবং বিয়ে করার বিষয়টি জানার পর ভূক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ও মা জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে কোরআন শরিফ নিয়ে কসম করান বলে জানিয়েছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে যান। বিষয়টি তাদের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। কিছু রটে,কিছু বটে। মানুষের মুখ তো আর ধরে রাখা যাবেনা।

তাদের দাবি যে, এত অল্প বয়সের সুন্দরী এবং মেধাবী মেয়েটাকে একাধিক বিবাহিত একজন পুরষের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না! কেননা ওই শিক্ষকের বর্তমানে একাধিক স্ত্রী রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর কোন সন্তান না হওয়ায় ইতিপূর্বেও ওই স্কুলের এক ছাত্রীকে বিয়ে করেন আকরাম মাস্টার। আমরা গরীব হতে পারি। কিন্ত সকলেরই একটা আত্মসম্মানবোধ আছে। এর খেসারত দিবে কে? এজন্য যেখানে গেলে বিচার পাওয়া যাবে সেখানে যেতে তারা ।

মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্রান্তকারী মহল তার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এসবের কোন সত্যতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফসার আলী বলেন,প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালে স্থাপিত। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং শিক্ষার গুণগত মানও ভালো। কিন্ত রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। বিষয়টি জানার পর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে একটি জরুরি মিটিং করেন করে জানিয়েছেন। এসবের কোন সত্যতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। তবে, কতদূর সত্য তা জানা নেই। আদা খাবে যে, ঝালে বুঝবে সে বলেও জানান তিনি।

মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম সেখ বলেন, প্রতিবছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই অন্তে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়। এবারে যারা আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই অন্তে তাকে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে, তার বিরুদ্ধে পূনরায় একছাত্রী বিয়ের আগেই ৪ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা এবং তাকে বিয়ে করার বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, বিষয়টি অবগত নয়। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category