বাগেরহাট প্রতিনিধি||
থানায় ঢেকে এনে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও দখলের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ করলো মোংলা থানার ওসির বিরুদ্ধে একটি সংখ্যালঘুপরিবার ।সম্প্রতি মোংলা উপজেলায় চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামে প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করে বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা টুলু মন্ডল (৩৩) ও আশিষ অধিকারী (৪৫) এই সংখ্যালঘু এ পরিবারটি দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের ।
এ বিষয়ে আশিষ অধিকারী বলেন, আমরা অনিল বিশ্বাস, শুনিল বিশ্বাস এর কাছ থেকে জায়গা কিনে ঘর-দরজা বাইন্দে বসবান করি।হঠাৎ করে ৫ মার্চ রহিজ দারগা যাইয়া বলতিছে তোমাদের ওসি স্যার দেখা করতে বলিছে । আমি ও আমার স্ত্রী ওসি স্যারের সাথে দেখা করতি চইলা আসি থানায়।থানায় আইসা ওসি স্যারের সাথে দেখা করতি চাইলে বলে দেখা করা যাবে না, তোমাদের বিরুদ্ধে কেস হইছে তোমাদের চালান করে দেয়া হবে। স্যারের সাথে তো দেখাই হলো না আমাদের চালান করে দিল। পরের দিন আমরা জামিনে এসে দেখি আমাদের ঘর-দরজা ওখান থেকে উচ্ছেদ করে ফেলা হইছে। আমাদের মালামাল লুট করে ট্রলার যোগে আমাদের মালামাল নিয়ে গেছে । এমন কি আমার মেয়ের পড়াশুনার বই খালে ফেলে দেয়া হইছে । আমাদের এমন কি অপরাধ ছিল? আমার ঘর ভাইঙ্গা নেয়া হলো । আমরা জানতি পারলাম না, আমাদের অপরাধটা কি? আমরা যদি ন্যায্য বিচার না পাই আমরা যাব কোথায়? আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই ।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান ছোট একটি ঘর তুলে মেয়েকে নিয়ে থাকতো এ সংখ্যালঘু দম্পতি। কিন্তু হঠাৎ দেখি ঘর দরজা ভেঙ্গে নৌকাট্রলার ভরে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন সহ বহিরাগত লোকও এসময় ছিলো। বহিরাগত লোক কিভাবে আমাদের এখানে বসে বাড়ি ভাংচুর করে? নিশ্চয়ই কারো না কারো ইন্দন আছে?
অশ্রুশিক্ত চোখে কান্না জড়িত কন্ঠে অসহায় সংখ্যালঘু আশিষ অধিকারীর স্ত্রী বলেন,দু জন পুলিশ এসে আমাদের বলে আপনাদেরকে ওসি স্যার ডাকছে। আমরা পুলিশের কথা মতো থানায় গেলে ওসি স্যার আমার সোনা গয়না খুলে রেখে আমাদের বাগেরহাট কোর্টে চালান করে দেন। তার আগে এ জমি নিয়ে থানায় বসাবসির কথা ছিলো। কিন্তু তারা বসাবসির কথা বলে আমাদেরকে চালান করে দিলো। স্থানিয় বিশ্ব মেম্বারের ইন্দনে এসব হইছে। তার ইন্দনে আমার ঘর দরজা সব ভাংচুর করে নিয়ে গেছে। আমার এইটুকু জায়গা ছাড়া আর কোন জায়গা নেই। আমরা এখন কোথায় থাকবো? ইউপি সদস্য বহিরাগত লোকজন দিয়ে আমাদের গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। ইউপি সদস্য বিশ্বের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার বাড়ি ঘর দুয়ার ভেংগে নিয়ে যায়।
মোংলা থানার অফিসার ই-চার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, একজন ৬৫ বছর এক জমিতে দখলে আছে সেই জমিতে আর একজন দখল করে ঘর তৈরীর সময় বাধা দিলে তাদের মারধর করে এমন অভিযোগের কারনে তাদের ধরে এনে কোটে চালান দেওয়া হয়েছে। যদি আর কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে থানায় এসে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন ওসি মনিরুল ইসলাম। #