নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীতে একটি কথিত
মানবাধিকার সংস্থার আড়ালে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ
চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশন
(আসুফ) এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক
মোঃ মুরাদ হোসেন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক এর কাছে
লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিচালক
এম. এ. আরিফের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এম. এ.
আরিফের নির্দেশে ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি
ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে এম. এ. আরিফ নিজে,
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ সোলেমান, সহ-সাধারণ
সম্পাদক হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক
সম্পাদক হিসেবে অকিউল ইসলাম পরশ এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে
মোঃ মুরাদ হোসেনকে মনোনয়ন ও অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে সংগঠনটির কার্যক্রম
ও বৈধতা নিয়ে অনুসন্ধানে অসংগতি ধরা পড়ে। এ সময় এম. এ.
আরিফ প্রত্যেক সদস্যকে কথিত কোটি প্রদান বা বিশেষ
সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করে দাবি
করেন। পাশাপাশি নতুন সদস্যদের বিভিন্ন পদে নেতা বানানোর
আশ্বাস দিয়ে অফিস ভাড়ার নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের
অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব
কার্যক্রম প্রতারণামূলক, বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল।
মো. মুরাদ হোসেন তাঁর আবেদনে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং
ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই
সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর
পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জানতে চাইলে মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে
সংগঠনটি সবার আইডি বাতিল ও রাজশাহীর কমিটি বিলুপ্ত করা
হয়েছে। তারপরও প্রতারক আরিফ আমাকে এবং কমিটির অন্যান্যদের
নিয়ে বোয়ালিয়া থানা, চন্দ্রিমা থানা ও মতিহার থানায় গিয়ে
সংগঠন পরিচালনার খরচ হিসেবে মাসিক চাঁদা দাবি করেন।
এড়াও বিভিন্ন ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে একই ভাবে চাঁদা
দাবি করা হয়। আবার কোথাও কোথাও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার
রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বলেও পরিচয় দিয়ে থাকে।
তার এই কর্মকাণ্ডে আমরা আমরা আতঙ্কিত হয়ে সংগঠন থেকে
পদত্যাগ করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের সাথে কখনই কেন্দ্রীয়
নেতাদের পরিচয় বা সাক্ষাত হয়নি। ফলে এই নামের সংগঠন আছে,
কি নাই তা নিয়েও আমাদের মাধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাই
আমাদের ধারনা প্রতারণাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছে আরিফ
বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এম. এ. আরিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার
মুঠো ফোনে ফোন দেয়া হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায়
তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যপারে এ এ ব্যপারে বুধবার
বিকালে আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ
গাজিউর রহমান, পিপিএম এর কাছে সরাসরি জানতে চাইলে
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#