জুনায়েদ রহমান চন্দন, স্টাফ রিপোর্টার : নওগাঁর রাণীনগরে পৌষ-পার্বন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তিন দিন ব্যাপী বয়লাগাড়ী মেলা শুরু হয়েছে। কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে জামাই মেয়ে আর স্থানীয়দের মেলায় আগমন হওয়ায় উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিন দিন ব্যাপি মেলার দ্বিতীয় দিন আজ দ্বিতীয় দিন বউ মেলা হয়ে থাকে। স্থানীয়রা বলছে জামাই মেয়ের মেলা আজান । মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের উন্মুক্ত মাঠে ডুবাগাড়ীতে এই ঐতিহাসিক মেলা শুরু হয়েছে। দুপুর গড়ার সাথে সাথে এই মেলাতে নারী-পুরুষ কিশোর-কিশোরী নানা বয়সের মানুষ দল বেধে মেলায় আসতে দেখা যায়। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ নানা জাতের বড় বড় মাছ।সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত কোনো এই মেলার মাছ পট্টিতে বিভিন্ন আকারের মাছ কেনার ধুম পরে যায়। বড় আকারের রুই কাতলা মাছ ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই মেলায় ৩২/৪২ কেজি ওজনের মাছ দেখা গেছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হবে এই মেলার আরো এক বিশেষ আকর্ষন জামাই মেয়ের মিলন মেলা।জানা গেছে, উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বিল বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে একটি গাড়ী ছিলো যার নাম বয়লাগাড়ী। ওই গাড়ীতে গ্রামবাসি নূরু মিঞার নের্তৃত্বে প্রায় শতাধিক বছর আগে কয়েকটি গাছ লাগানো হয়। তার পরের বছর থেকে কোন রকম ঘোষনা ছাড়াই পৌষ পার্বন উপলক্ষে পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বয়লাগাড়ী নামক স্থানে স^ল্প পরিসরে মেলা বসতে শুরু করে। সেই মেলায় এখন সময়ের ব্যবধানে জাঁকজোমক ভাবে জমে উঠেছে। তিন দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হলেও দুই দিন আগে থেকে দোকানপাট নাগরদোলাসহ অন্যান্য বিনোদন মুখী খেলনা বসেছে। যা চলবে প্রায় সপ্তাহ ব্যাপী। বয়লাগাড়ী মেলাতে আসা বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের জামাই রফিকুল ইসলাম জানাদন, আমি এই মেলায় প্রতি বছরই আসি। মেলা থেকে এবার ৮কেজি ওজনের কাতল মাছ কিনেছি। প্রতি কেজি মাছের দর ছিলো ৫শ’টাকার কিছু বেশি। মেলার পরিবেশ বিগত দিনের চেয়ে অনেক ভালো, এবার দোকান পাটও বসেছে বেশি। জিনিসপত্র ক্রয় ক্ষমতার নাগালের মধ্যে আছে।বয়লাগাড়ী মেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান বাচ্চু জানান, প্রায় ১শ’ বছর আগে থেকে আমাদের গ্রামের মাঠের মধ্যে এই মেলা হতো। গ্রাম থেকে বেশি দূরে হওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে আমরা মেলাটা গ্রামের পাশে নিয়ে আসছি। এতে করে মেলায় আগত দর্শনার্থীরা খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারে। মেলার বিশেষ আকর্ষন হিসেবে নানা জাতের বড়বড় মাছ এই মেলায় এসেছে। গরু-মহিষ জবাই হয়েছে বেশ কয়েকটি। এছাড়াও মিষ্টির দোকান নাগর দোলা ফার্নিচার সামগ্রী ছোটদের খেলনাসহ বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট বসেছে। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ জানান, বয়লাগাড়ী মেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনার জন্য স্থানীয় কমিটির পাশাপাশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মেলার পরিবেশ ভালো আছে।