বাগেরহাট প্রতিনিধি।
এবার বাগেরহাটে পুলিশের অভিযানে প্রায় ২ হাজার পিস ইয়াবা ও ৬ জনকে ঘটনা স্থলে আটক করলেও ১৬ পিস ইয়াবা দিয়ে ৪জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে চিতলমারীর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলা সদর বাজারের খান সুজের মালিক কুড়ালতলা গ্রামের সাখাওয়াত খানের ছেলে ইয়াহিয়া খান (২২), দূর্গাপুর গ্রামের সমীর বৈদ্যর ছেলে সঞ্জিত বৈদ্য (২৩), পিঁপড়াডাঙ্গা গ্রামের দিপক বসুর ছেলে দিপ্ত বসু (২০) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চরবানিয়ারী গ্রামের পীযূষ কান্তি রায়ের ছেলে প্রত্যয় রায় (২০) ও বাকি দুজন আড়ুরয়াবুর্ন্নী গ্রামের মামুন ও রুহুল ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ এলাকায় গুঞ্জন চলছে পুলিশের টাকার লেনদেন ও পুনরায় আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসনের চেষ্টা। কিভাবে প্রত্যয় কে ডেভিলহান্ট মামলায় না দেখিয়ে চালান করা হলো বিগত দিনে প্রত্যয় পিতা কে পুঁজি করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে বেরিয়েছে এটা সবার জানা তাহলে কি ওসি ও এই অপকর্মের সাথে জড়িত প্রশ্ন যেগেছে সাধারণ মানুষ এর মনে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৮ মার্চ রাতে অভিযান পরিচালনা করেন, চিতলমারী থানার এস আই মাহমুদুর রহমান এ সময় সঙ্গীও ফোর্স হিসেবে ছিলেন আরো ৮ থেকে ৯ জন পুলিশ সদস্য তারা মাদক ব্যবসায়ী ইয়াহীর বাড়িতে তল্লাশি করে চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীযুষ কান্তি রায়ের ছেলে প্রত্যয় রায়সহ ৬ জনকে আটক করে। এ সময় তাৎক্ষণিক মাদক সেবনকারী মামুন এর পকেট তল্লাশি করে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ও রুহুলকে মোটা অর্থের বিনিময়ে পুলিশের এস আই মাহামুদ ছেড়ে দেয় তাদের।
বাকি চারজনকে থানায় নিয়ে আসলেও পরদিন সকালে আদালতে প্রেরণ না করে দুপুর পর্যন্ত চলে দর কষাঘষি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে প্রত্যয় রায় কে মাদক সেবনকারী এই মামলা দেওয়ার কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা ও বাকি তিনজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১৬ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন চিতলমারী থানা পুলিশ।
অভিযানের সময় থাকা একজন সোর্স বলেন, আমার কাছে তথ্য থাকে যে দশ হাজার পিস ইয়াবা ১২০০ বোতল ফেনসিডিল ও এক কেজি গাঁজা ইয়াহিয়ার বাড়িতে রয়েছে। আমরা ওখানে পুলিশের সঙ্গে যাওয়ার পরে ৬ জনকে মাদক সেবন অবস্থায় আটক করে পুলিশ তার পরবর্তীতে দুই হাত ভরে ইয়াবা তুলে জব্দ করেন পুলিশ সদস্যরা ও ওইখানে মাদক সেবন কারি মামুনের পকেটে ৩০ হাজার টাকা ছিল ও ছড়ানো ছিটানো প্রায় ৪০ হাজার টাকা ছিল এছাড়া একটি ব্যাগে কয়েকটি ১ হাজার টাকার বান্ডিল ছিল আনুমানিক ৪ লক্ষ্য টাকা ছিলো ব্যাগটিতে এগুলো সব জব্দ করে এসআই মাহমুদ। এ সময় ৬ জনকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রুমের ভিতর নিয়ে মারধর করে। রুমের ভিতরে ইয়াহীয়াকে আটকিয়ে মারধর করলে তখন নীল রংয়ের কয়েকটি প্যাকেট ভর্তি ইয়াবা বের করে দেয় সেখানে আনুমানিক প্রায় ২ হাজার পিস ইয়াবা ছিল বলে মনে হয়। তাছাড়া প্রত্যয়কে রুমের ভিতরে আটকে তার পরিবারের কাছে ফোন করেন এস আই মাহামুদ হাসান। পরবর্তীতে ছয়জনের মধ্যে মামুন ও রুহুল এই দু’জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আমার ধারণা ওখানে অভিযান করে প্রায় ২ হাজার পিস ইয়াবার বেশি পাওয়া গেছে। পুলিশ ও আমরা জানতাম না ওখানে প্রত্যয় রায় আছে ওখানে গিয়ে অনেক টাকা ও প্রত্যয় কে পাওয়ার পরে এসআই মাহমুদ হাসান বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা শুরু করে। একটা সময়ে স্থানীয় বিএনপি’র লোকজন জানাজানি হলে যেখানে প্রত্যয় রয়েছে মুহুর্তের ভিতরে এস আই মাহমুদ বলে এই বিষয়টা এসপি স্যার জানে ডিসিসার ও জানে থানায় নিয়ে যাব। পরবর্তীতে আমরা শুনতে পাই ১৬ পিচ ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজা দিয়ে এদের চারজনকে চালান দিয়েছে পুলিশ।
জানতে পেরে পরদিন এর প্রতিবাদ করলে ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল শরীফের সঙ্গে আমাদের সাথে বাক বিতন্ডা জরিয়ে একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেই।
…