মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারী বেতন খাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে উপাধ্যক্ষ মোঃ দুরুল হুদার বিরুদ্ধে। তিনি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ডিএস কামিল মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ।
ধুরইল ডিএস কামিল মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, মোঃ দুরুল হুদা উনিশ চুরানব্বই সালে আরবী প্রভাষক ও উনিশশ পচানব্বই সালে উপাধ্যক্ষের পদে একই মাদ্রাসার নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কিন্তু তার কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না এবং ওই নিয়োগ নেয়ার সময় উপাধ্যক্ষের পদই ছিলো না। গত ২৪/১২/২১৭ তারিখে ভারপ্রাপ্ত থাকা অবস্থায় উপাধ্যক্ষের বেনত স্কেল করে নেন তিনি। এটা তার আরেকটা দূর্ণীতি। তিনি ১৯৯৩ সালে কামিল পাশ করেছেন। পরবর্তীকালে তার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখা যায়। তিনি দাখিল ও আলীম সার্টিফিকেট এর তৃতীয় বিভাগের উত্তীর্ণ অথচ চাকরী শর্তে কোন পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ গ্রহন যোগ্য নহে। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উপাধ্যক্ষের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পাচঁ বছরের প্রভাষকের চাকুরী করার অভিজ্ঞতার শর্ত রয়েছে। কিন্তু এ সকল শর্ত না-মেনেই তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত হন। যাহা মাধ্যমিক ও উচশিক্ষা পরিদপ্তরের স্বারক নং-০১/১৪০০/ তারিখ- ০১/০১/১৯৮২ সূত্র মোতাবেক নিয়োগ পরিদপ্তরের পরিপন্থি। স‚ত্রে আর ও জানা যায়, মোঃ দুরুল হুদা এমপিও ভুক্তিকরন ব্যাংক তথ্যে দাখিল ও আলীম দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ দেখিয়েছেন ও সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও ভুক্ত হয়েছেন।
একাধীক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, মোঃ দুরুল হুদার বিরুদ্ধে আর ও অভিযোগ উঠেছে, তিনি ছুটি না নিয়ে প্রায় ভারতে যাতায়াত করেন। মাদ্রাসার কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন না। এমনকি জাতীয় সংগীত, জঙ্গী বিরোধী কর্মকান্ডে তিনি উপস্থিত থাকেন না এবং তার বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে অত্র মাদ্রাসার জঙ্গী বিরোধী কমিটির সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম থানায় একটি জিডি করেন। যাহার নং-১১০ তারিখ-০৩/০৯/২০১৬ইং। এই সকল বিষয়ে প‚র্বের কমিটির সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি বারবার শোকজ করলে ও তার কোন সন্তোষ জনক জবাব দিতে ব্যার্থ হন তিনি । নিরুপায় হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করার পরও অধ্যাবদি কোন প্রকার তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে মোহনপুর উপজেলার ধরইল ডিএস কামিল মাদ্রাসার স্টাফ ও অভিভাবকগণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ নানা ধরণের গুঞ্জন শোনা যায়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট।
এ ব্যপারে মুঠো ফোন জানতে চাইলে, মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ডিএস কামিল মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ মোঃ দুরুল হুদা জানান, ব্যস্ত আছি পরে কথা বলি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যপারে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে ওই মাদ্রাসায় সভাপতি মোঃ মফিজ উদ্দিন কবিরাজ জানান, উপাধ্যক্ষ ব্যপারে জানতে হলে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে। সাক্ষাত ছাড়া আমি কোন মন্তব্য করতে পারবোনা।