নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর সেই বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা তাসনুভা ফেরদৌসের (৩৮) জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজশাহীর এমএম-৪, এর আদালতে তাকে হাজির করে জামিনের জন্য আবেদন করা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের কৌশলী বক্তব্য শেষে বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা তাসনুভা ফেরদৌসের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ বিজ্ঞ আদালত ।
জানা গেছে, গত (৩০ আগস্ট) দুপুরে ভ‚ক্তভোগী মোঃ গোলাম কিবরিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় রাজশাহীর চীফ-মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে তাসনুভা ফেরদৌস তার নিয়োগকৃত এ্যাডভোকেটের মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অভিযুক্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার দাসপুকুর এলাকার মোঃ আরমান আলীর মেয়ে। তার স্বামীর নাম গোলাম জাকির।
এর আগে প্রতারণার শিকার ভ‚ক্তভোগী মোঃ গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে জেলা রাজশাহীর সি.এম.এম আমলী (বোয়ালিয়া) আদালত, রাজশাহীতে ৪০৬/৪২০ দঃ বিঃ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৬৯, সি/২৩ (বোয়ালিয়া)। সেই মামলায় জামিন নিতে গিয়েছিলেন ওই নারী।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসের ১০ তারিখে বেসিক ব্যাংক লিমিটেড রাজশাহী ব্রঞ্চে, প্রতারনার শিকার মোসাঃ মায়া বেগম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মাহেলা বেগম ও মোঃ সুজন আলী বাদী হয়ে তাসনুভা ফেরদৌস (পরিচিতি নং-২৯১১) কর্তৃক অর্থ প্রতারনা, চেক বই জালিয়াতীর বিষয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৬মার্চ ওই নারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বেসিক ব্যাংকের বরখাস্ত ক্যাশিয়ার তাসনুভা ফেরদৌস ও তার স্বামী গোলাম জাকির চেক জালিয়াতি ও জাল স্বাক্ষরসহ নানাভাবে ২৫টি পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর প্রতারণার শিকার মোসাঃ মায়া বেগমকে তাসনুভা ফেরদৌস ধর্ম মা বানিয়ে তার ব্যাংকে একাউন্ট খুলে দেন। পরে বিভিন্ন জায়গার সম্পত্তি বিক্রি করে মায়া বেগম ব্যাংকে ৭৯ লক্ষ টাকা রাখেন। পরবর্তিতে চেক জালিয়াতি করে একাউন্ট থেকে টাকা সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেয় ওই নারী তাসনুভা। এরপর প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী মায়া বেগম ওই ব্যাংক কর্তার বিরুদ্ধে আদলতে মামলা করেন। একই ভাবে নগরীর হাজরাপুকুর এলাকার নাহিদা নাসরিন লিনা নামের এক ভুক্তভোগির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তাসনুভা ফেরদৌস ও তার স্বামী গোলাম জাকির।
একাধীক ভ‚ক্তভোগিদের অভিযোগ, চেক জালিয়াতি ও জাল স্বাক্ষরসহ নানাভাবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী ২৫টি পরিবার সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। ভ‚ক্তভোগীরা টাকা ফেরতসহ প্রতারক স্বামী-স্ত্রীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গোলাম জাকিরের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় এখন পর্যন্ত ১৩টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়ে তারা বেশ কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। ১১টি মামলায় তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।