• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

বাঘা পৌর নির্বাচন বিদ্রোহীতে গলার কাঁটা আ’লীগে,জয়ের আশা বিএনপি-জামায়াতের,

দিনকাল বিডি / ২৯৮ Time View
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

আব্দুল হামিদ মিঞা,বাঘা (রাজশাহী) ঃ
এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ১ বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় প্রতীক বিহীন প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন বিএনপি-জামায়াতের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দলবিহীন ১প্রার্থী। সব মিলিয়ে চার প্রার্থীর মধ্যে ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি-জামায়াত এখানে আওয়ামী লীগকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে বলে ধারনা ভোটারদের। আগামী ২৯ ডিসেম্বর’২২ রাজশাহীর বাঘা পৌরসভায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন- উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান (নৌকা), জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী (জগ), পৌর জামায়াতের আমির সহকারি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম (নারিকেল গাছ), পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন (কম্পিউটার) এবং ইসরাফিল বিশ্বাস (মোবাইল ফোন)। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের আক্কাছ আলী ও বিএনপির কামাল হোসেনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আত্মীয়তার বন্ধন ও গোষ্ঠীতন্ত্রের কারণে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রাার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে গোপনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কেউ কেউ। এতে ভোটের সমীকরণে আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী।
আ’লীগ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জেলা ও উপজেলা কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা প্রায় প্রতিদিন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
পৌরসভার চক ছাতারি গ্রামের সুলতান আলী জানান, প্রতীক দেখে নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবেন। বাজুবাঘার সাজেদুল নামে একজন বলেন, আওয়ামী লীগ করি, তাই প্রতীক দেখে ভোট দেবেন। বিএনপির তফিকুল ইসলাম-জামায়াতের জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সমর্থনকারি ভোটারা বলেছেন, প্রতীক না থাকলেও ব্যক্তি দেখে ভোট দেওয়ার কথা। তাদের কথায় কেউ কারোর চেয়ে পিছিয়ে নেই। সবাই সমান সমান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে দলগত সিদ্ধান্তে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। দলের সব নেতাকর্মী নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। জয়ের আশা তাদেরই।

জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সহকারি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পৌর নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গোষ্ঠীগত ও আঞ্চলিকতার কারণে কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নেন, সে ক্ষেত্রে কাউকে নিষেধ করা হয়নি। তবে কামাল হোসেনকে বহিস্কার করা হয়েছে।
জানা যায়, পৌরসভার প্রথম নির্বাচন হয়েছিল ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। দলীয় প্রতীকহীন ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন প্রথম চেয়ারম্যান (তখন চেয়ারম্যান বলা হতো) নির্বাচিত হয়েছিলেন, আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী ছিলেন আ’লীগের আক্কাছ আলী। ২০০৬ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে আব্দুর রাজ্জাককে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আক্কাছ আলী নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের কাছে পরাজিত হন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্কাছ আলী। ভোটের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৫২৬ ভোট।
এবারের নির্বাচনেও সেই আক্কাছ আলী নৌকার বিপরীতে গিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শাহিনুর রহমান। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অন্তত পাঁচজন। শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়েছেন শাহিনুর রহমান। শুরুতে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মন খারাপ থাকলেও শুধু প্রতীকের দিকে তাকিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ না দেখিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তাঁরা।
দলীয় প্রতীকের বাইরে লড়ছেন বিএনপির কামাল হোসেন ও জামায়াতের সাইফুল ইসলাম । সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে ১৩জন,৯টি সাধারন ওয়ার্ডে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে ও ভোটারদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাই শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুজিবুল আলম বলেন,পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৬৬৯। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ৮১২ এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৮৭৭জন। বিগত নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮৯ জন।
পৌর নির্বাচনে রির্টানিং অফিসার আবুল হোসেন জানান, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১১ টি কেন্দ্রে ৯০টি বুথে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে । আগামী ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহন করা হবে। ১১জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৯০জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৮০ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহন করবেন। ##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category