• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

বিভাগীয় বিএনপি’র গণতন্ত্রের শোভাযাত্রায় নেতা-কর্মীদের ঢল: নির্বাচিত সরকার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে .চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় নেতা সালাহ্ উদ্দীন

দিনকাল বিডি ২৪ / ১১৩ Time View
প্রকাশঃ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: দেশে জগদ্দল পাথরের ন্যায় অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতা -কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, হামলা-মামলা দিয়ে জীবন অতিষ্ঠ করে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে রাজপথে বিএনপি’র আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। সেই আন্দোলন গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যতোদিন দেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততোদিন আন্দোলন চলমান থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ
উদ্দীন আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর আলমাস মোড়ে বিভাগীয় বিএনপি’র গণতন্ত্রের শোভাযাত্রা-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সালাহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চলমান এ আন্দোলন, যতোদিন সত্যিকার ভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হবে, ততোদিন চালু রাখতে হবে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যতোদিন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে এবং সংসদ প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততোদিন পর্যন্ত আমরা রাজপথে এ আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।’
এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘সবাই ধৈর্য্য ধরুন। সবাই সুশৃঙ্খল থাকুন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম জারি রাখুন। যতোদিন পর্যন্ত এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবার ঘোষণা না দেয়, ততোদিন এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাদের আহ্বান জানাই, যতোদ্রুত সম্ভব নির্বাচনমুখী সংস্কার সাধন করুন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ আপনারা ঘোষণা করুন। তাহলে এদেশের মানুষ আশ্বস্ত হবে যে, বাংলাদেশ সত্যিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।’ আর আপনারা যদি মনে করেন, সবকিছু এমনি এমনি এসেছে, তাহলে এটা ভুল কথা। মোট ৪৮৫ জন শহীদের মধ্যে এ গণঅভ্যুত্থানে, এ গণবিপ্লবে ৪২২ জন শহীদ বিএনপি’র নেতা-কর্মী। ১১৩ জনের বেশি ছাত্রদলের নেতা-কর্মী। এ আন্দোলন সংগ্রামে সাত শ’র বেশি মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৪২৩ জন শুধু বিএনপি’র নেতা-কর্মী। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে প্রায় ২৭০০ মানুষ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, তার মধ্যে শতো, শতো মানুষ বিএনপি’র নেতাকর্মী।’ কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের এখানে তাঁবেদারি চলবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘যদি সত্যিকারভাবে স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, যদি সাম্যভিত্তিক একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান, যদি আইনের শাসনের রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান, তাহলে শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমাদের পরস্পরের অধিকারের প্রতি স্বীকৃতি দিতে হবে। কেউ আইনের চেয়ে বড় নন।’
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক ও গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় শোভাযাত্রার সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর নির্যাতনের পরও বিএনপিকে স্তব্ধ করতে পারেনি। আগামী ১৭ বছর চেষ্টা করলেও পারবেনা। রাত যত গভীর হয় ভোর তত নিকটে আসে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল ভোর বুঝি আর হবেনা। কিন্তু সকাল ঠিকই হয়েছে। শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা মাবোনদের জন্য কলঙ্ক। হাসিনার মত স্বৈরশাসক ইতিহাসেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তাই বলে আমাদের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের কেউ যেন আশ্রয় না পায়। আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেক টাকা। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
আবুল খায়ের ভূইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশকে ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে জবরদস্তির শাসন কায়েম করেছিল। জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিতদের শাসন ফিরিয়ে আনাই হবে রাষ্ট্রের বড় সংস্কার।’
জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পর গণতন্ত্রের পথে নতুন করে অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের অতি জরুরি কিছু সংস্কার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জন প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ ও সরকার গঠন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। উন্নয়ন যেমন গণতন্ত্রের বিকল্প নয়, তেমনি সংস্কারও ভোটের বিকল্প নয়।’
গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতে পারেনি। সাম্প্রতিক পোশাক শিল্পে অস্থিরতার জন্য ফ্যাসিবাদের দোসররা দায়ী। ছাত্র জনতার আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মী। বিএনপির সাথে আওয়ামীদের তুলনা করা যায় না। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার বিচার এদেশের মাটিতে হবেই।’
শোভাযাত্রার সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘বর্তমান সরকার হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের পর বিপ্লবের মধ্যদিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া। তবে আওয়ামী লীগ সরকার যে জঞ্জাল সৃষ্টি করে গেছে, সেটাকে দূর করে একটি সঠিক সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
ডাঃশাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তার শাসনামলে এই জাতিকে সে ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণে আবদ্ধ করে গেছে। পাচার হয়ে গেছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। দুঃশাসনে সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দিয়েছে। বর্তমান সরকার হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমরা আশা করবো, তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিবেন।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সদস্য সাচিং প্রু জেরী, জালাল উদ্দীন মজুমদার, মশিউর রহমান বিপ্লব, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দিপেন তালুকদার দিপু, উত্তর জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. আবদুর রহমান, বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা। উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল, সরওয়ার জামাল নিজাম, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category