এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিএনপি’র ঘাড়ে অনুপ্রবেশকারীর তকমা আর জামায়াতের বিরুদ্ধে ক্ষমার কৌশলগত রাজনীতি! সুবিধা ভোগীরা রয়েছে পোয়া বারো’ কুড়িয়ে নিতে ব্যস্ত।
কথায় বলে, সুবিধাবাদীরা সব সময়ই সুবিধা হাতিয়ে নিতে উন্মুখ থাকে এবং যথারীতি হাতিয়ে ও নিয়ে থাকে!
গ্রাম্য বাক্যে বলা হয়- বৃষ্টি যে দিকে ওই সব সুবিধাবাদীরা ছাতা ও সে দিকে ধরে। আর বৃষ্টি থেমে গেলে আস্ত ছাতা টা ও ছুড়ে ফেলে দিতে তারা মোটেই কার্পণ্য করে না!!
যেযনটির উদাহরণ-বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনকাল।
বিগত বিএনপি’র শাসনামলে যারা বিএনপি’র ছায়াতলে থেকে সুবিধা ভোগ করেছিলো তারা আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সুর-রুপ পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগের ছায়াতলে এসে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো বিএনপি কে। এখন আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তারা-ই আবার আওয়ামী লীগ কে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিএনপি’র কিছু সুবিধাবাদী নেতাদের পিছু পিছু ঘুরছে!
গুটি কতেক মুরব্বী শ্রেণীর লোক বলেন, ভাষা টা একটু খারাপ হলে ও সত্যতা সাপেক্ষ বলতে হচ্ছে- ওই সব দু’মুখো-দু’চোখা ব্যক্তিদের গ্রাম্য ভাষায় বলা হয়- আশ্বিন মাস আসলে কুকুর যেমন কুকুরনির পিছু পিছু লেজ তাড়িয়ে ঘুর ঘুর করে তারা ও সেই রকম। ওদের কোনো নীতি নেই, ওরা নীতিহীন এক জন্তু মানব।
ওই সব জন্তু মানবদের মধ্যে জাতীর বিবেক খ্যাত, বিবেক বিবর্জিত সাংবাদিক এবং শিক্ষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী ও পেশার নীতিহীনরা জড়িত রয়েছে।
আর তাদের ওই ছলচাতুরি বুজার ক্ষমতা বর্তমানে ক্ষমতা না পাওয়ার আগে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা হারানোর পর পরই বিএনপি সহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নেই বলে ধরে নেয়া যেতে পারে।
যদি ওই সব দু’মুখো-দু’চোখা এবং নীতিহীন ব্যাক্তিদের ছলচাতুরি বুজার ক্ষমতা তাদের থাকতো তাহলে তারা অন্তত: পুরোনো দিনের কথা মনে রেখে তাদের কে ধারে-কাছে ও ভিঁড়ার সুযোগ দিতো না।
ফ্যাক্ট : দেশের প্রায় সব জায়গায়তে যদি ও বা এক- ই অবস্থা হয় হতে পারে।
তবে, আলোচ্য এ প্রতিবেদন টি শুধু মাত্র উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জন্য প্রযোজ্য হিসেবে লিখে তুলে ধরা হলো।
অবশ্য, শুধু মাত্র বিষয়টিতে বিএনপি’র নাম উল্লেখ করা হলে ও জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করা হয়নি এখানে।
এর কারণ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী কোন্ রাজনৈতিক টেকনিক্ এপ্লাই করে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে তা এখনো বুজা মুশকিল। যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা অহরহ বলে বেড়াচ্ছে-অতিত সময়ে যারা যাহা কিছু করেছে তাহা নাকি মাফ করে দেয়া হয়েছে বা হচ্ছে এবং নাকি হবে ও!
সুতরাং, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক টেকনিক্ রহস্য জনক ঠেকার কারণে বুজা মুশকিল বলে অনেকেই মনে করেন। আর সেই কারণে তাদের নাম উল্লেখ থেকে আপাতত: বিরত থাকা শ্রেয় বলে মনে করলাম আমরা।
তবে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি থেকে শুরু করে সকল দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সাথে সহাবস্থানে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হওয়ার-ই কথা, যারা অতিত সময় গুলোতে মানুষের আরামের ঘুম হারাম করেছিলো তাদের সাথে একাত্ম হয়ে তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সাচ্ছন্দ বোধ করছে! কারণ, আগে থেকেই বলা হয়েছে তারা তাদের কে ক্ষমা করে দিয়েছে।
যে কোনো হারাম কারী ব্যাক্তির সংস্পর্শে যাওয়া ও ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বলে কারো কারো কাছে এতোদিন শোনা গিয়েছিলো। তাহলে এখন কি ইসলাম ভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ওই রাজনৈতিক ঘোষণায় তা কি মিথ্যা হয়ে যাবে?
তবে, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা যেহেতু ইসলাম ভিত্তিক রাজনীতি করে তাহলে তাদের বিষয়ে কি-ই বা বলার থাকতে পারে?
তবে, এটা ও অমূলক নয় যে, যারা হারামখোর তারা কখনো ভালোর পথে আসবে না।
সুতরাং, যারা মানুষের আরামের ঘুম হারাম করে দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানানোর আলোকবর্তিকা ছিলো তাদের বিষয়ে চিন্তা করে যাহা কিছু করার তাহা করা-ই করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের আওতায় পড়ে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যাক্তিদের অভিমত।