• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

কালাইয়ে নিখোঁজের ৬ দিন পর সেফটি ট্যাংক থেকে শিশু রুহির লাশ উদ্ধার

দিনকাল বিডি ২৪ / ২২৩ Time View
প্রকাশঃ শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫

মোঃ ফারুক হোসেন

জয়পুরহাটের কালাইয়ে সৎ মায়ের হাতে বলি হয়েছে ৪ বছরের শিশু রদিয়া আক্তার রুহি। ছয় দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার (৩০ মে) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের হিমাইল গ্রামের নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক (পায়খানা) থেকে শিশু রুহির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।
এর আগে শিশু রুহি নিখোঁজ থাকায় থানায় লিখত অভিযোগ করলে রুহির সৎ মা সোনিয়া আক্তার, সৎ নানা (সোনিয়ার পিতা) জিয়া কসাই ও শিশু রুহির চাচাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। সে সময় তাদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে হিমাইল গ্রামে শিশু রুহির বাবা আব্দুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এরপর নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করে তারা।

এ ঘটনায় কালাই থানা পুলিশ রুহির সৎ মা সোনিয়া, আপন চাচা রনি, বাবা আব্দুর রহমান এবং সৎ নানা জিয়াউর রহমানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু রুহির পিতা আব্দুর রহমান হিমাইল গ্রামের আমলের মেয়ে আরজিনাকে গত ৮ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। সে পক্ষের সন্তান রুহি। রুহির মা আরজিনার সাথে বাবা আব্দুর রহমানের পারিবারিক মিল না হওয়ায় গত দুই বছর আগে বিচ্ছেদ হয় তাদের। এরপর থেকে আরজিনা মেয়ে রুহিকে নিয়ে তার বাবা আলমের বাড়িতেই থাকে। পরে আরেকটি বিয়ে করে আব্দুর রহমান। রুহির নানার বাড়ি ও বাবার বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিন বাবার বাড়িতে যাতায়াত করতো । গত ২৪ মে সকালে রুহি তার বাবা আব্দুর রহমানের বাড়িতে গেলে আর না ফেরায় মা আরজিনা প্রথমে সৎ মা ও চাচাকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, তার দাদা-দাদি না থাকায় তাকে আবার পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু, রাত পর্যন্ত মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে পরদিন (২৫ মে) কালাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে রুহির সৎ মা সোনিয়া, চাচা রনি এবং সৎ নানা জিয়া কসাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, শিশুটিকে হত্যা করে বাড়ির টয়লেটের ভেতরে ফেলে দিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয়রা বলছেন, রুহির বাবা সবসময় ধান কাটার কাজে মাঠে ব্যস্ত এবং দাদা-দাদি গরুর ঘাস কাটা নিয়ে মাঠে যায় আর এই সময়ে শিশু রুহি তার বাবার বাড়িতে গেলে সৎ মা এবং আপন চাচার পরকীয়ায় দেখে ফেলায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পায়খানার ট্যাংকির ভিতরে বস্তা বন্দী করে রেখেছে। শিশু রুহিকে তার সৎ মা মোটেও সহ্য করতে পারেননা।
তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে এলাকাবাসী।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায়
৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category