এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম থেকে :
চট্টগ্রামে ভারতীয় নৃত্যশিল্পীর নাচ অনুশীলনে বাধা দেয়ায় মেয়ের লাঠির আঘাতে মা আনোয়ারা বেগম (৫৬) এর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ২৫ মে (শনিবার) অভিযুক্ত মেয়েকে আদালতের মাধ্যমে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার পাহাড়তলী থানায় নিহতার ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ হেফাজতে নিলে সে খুনের বর্ণনা দেয়।
পুলিশ জানায়, খুন হওয়া নারীর পালিত সন্তান সতেরো বছরের ওই মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গত ২১ মে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম মারা যান। তিনি নগরীর পাহাড়তলীর দক্ষিণ কাট্টলী ছদু চৌধুরী রোডে চৌধুরী আবাসিক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়।
পুলিশের পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার মোঃ মঈনুর রহমান বলেন, ‘নিহত আনোয়ারা বেগমের প্রথম সংসারে তিন ছেলে আছে। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই সংসারে কোনো সন্তান না হওয়ায় মেয়েটিকে দত্তক আনেন। বছর খানেক আগে দ্বিতীয় স্বামী ও মারা যান। দ্বিতীয় স্বামীর বোনের লন্ডন থেকে পাঠানো টাকা ও তিন ছেলের সাহায্য নিয়ে তিনি মেয়েকে নিয়ে থাকেন।’
তিনি বলেন, ‘মেয়েটি ছিলো আনোয়ারা বেগমের আদরের।
সব সময় তাকে চোখে চোখে রাখতেন। মেয়ে ইউটিউবের ভিডিও দেখে বাসায় ইয়োগা, যোগাসন সহ বিভিন্ন ধরনের যোগব্যায়াম শুরু করে। একই সাথে ভারতীয় নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেনের ভিডিও দেখে তার নাচের মুদ্রা অনুশীলন করতো। তিনি এসব পছন্দ করতেন না। তার সন্দেহ হয়, মেয়ে অমুসলিম কোনো ছেলের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে মনোমালিন্য চলছিলো।’
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত ২০ মে বিকেলে মেয়ে প্রাইভেট কোচিং শেষে বাসায় ফেরার পর নাচের মুদ্রা অনুশীলন শুরু করে। তখন আনোয়ারা বেগম বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর এক পর্যায়ে মেয়ে কাঠের টুকরা দিয়ে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে গুরুতর: জখম হয়ে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। ঘটনার পর মেয়ে কাঠের টুকরাটি রান্না ঘরের পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেয়। পুলিশ সেই কাঠের টুকরো টি ও উদ্ধার করেছেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।’