এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্মুখে ৯ আগস্ট শুক্রবার বিকাল ৩ টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব’র অন্তবর্তী কালীন কমিটির সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম শিল্পী। বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক ঐক্যের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তবর্তীকালীন কমিটির সদস্য আরিয়ান লেনিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের পর যখন প্রেসক্লাবে বিক্ষিপ্ত ছাত্র-জনতা আক্রমণ করতে উদ্ভূত হয় তখন তৃণমূল সাংবাদিকরা দেশের সম্পদ প্রেসক্লাব কে রক্ষা করে।
বিক্ষুদ্ধ ছাত্র জনতার অভিযোগ, বিগত দিনে সাংবাদিক নের্বৃতৃন্দ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব কে দলীয় কাজে ব্যবহার করেছেন, আন্দোলন কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন, এমনকি ছাত্রদের চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের পুলিশ ভ্যানে ও তুলে দিয়েছিলেন!
আর এটা হচ্ছে অপসংবাদিকতা, সাংবাদিকরা কখনো এক পক্ষ হয়ে কাজ করতে পারে না। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা প্রেস ক্লাবটিকে মাদক ও জুয়ার আসরে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাবে ছিলো শুধুমাত্র ক্লাবের সদস্যদের প্রবেশাধিকার, সাধারণ সাংবাদিকদের জন্য ছিলো এটি ক্যান্টনমেন্ট। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীদের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান তৈরিতে দেশের বিভিন্ন মানুষের অবদান রয়েছে। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থলে সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন যাবত সদস্য পদ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তৃণমূল সাংবাদিকরা জেগে উঠেছে। অতীতের সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের শৃংখল ভেঙে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে বৈষম্যহীন প্রেসক্লাব হিসেবে গড়ে তোলার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, যা পুরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ছাত্রদের বুকে নির্বিচারে গুলি চালানোর নেপথ্যের সহযোগিতাকারী সেই সব সাংবাদিক নেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবী জানান বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিক সমাজ। এ ছাড়া ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাংবাদিক নেতাদের দূর্নীতি খতিয়ে দেখে তাদের বিচারের দাবী জানান বক্তারা।
সেই সকল সাংবাদিকদের অবাঞ্চিত ও ঘোষণা করা হয় মানববন্ধন থেকে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, কিরন শর্মা, শিব্বির আহমেদ ওসমান, মোঃ জালাল উদ্দিন সাগর, কামরুজ্জামান রনি, আমিনুল হক শাহিন, রাশেদুল আজীজ, সাজ্জাদ বিন খালেদ, মোঃ গিয়াস উদ্দিন লিটন, শাহারিয়ার রিপন, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বাহার, মোঃ আশরাফ উদ্দিন প্রমূখ।
এ সময় উক্ত মানবন্ধনে যোগ দেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নের্বৃতৃবৃন্দরা।