গৌতম কুমার মহন্ত ঃ উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলনসহ চলতি মৌসুমে হাটে-বাজারে আমন ধানের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে সোনালী হাঁসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। নবান্ন উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে এলাকার কিষান-কিষানীরা। নতুন ধানের চালের আটায় তৈরী রকমারি পিঠা বানানোর ধুম পড়েছে কৃষাণীদের উনুনে উনুনে। মৌসুমের শুরুতে খোলা বাজারে খুচরা ব্যাবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মুল্য চেয়ে ৩শ থেকে ৪ শ”টাকা বেশি দামে প্রতিটি সারের বস্তা বিক্রি করেছে।
ওই সময় সারের মুল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি মহল সার সংকটের গুজব ছড়িয়ে আমন ধান চাষিদের মধ্যে আতংক সৃষ্টির পায়তারা করে। তবে ওই সময় উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ভাবে সার মজুদদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে করে। ফলে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের অসৎ উদ্দেশ্য ব্যার্থ হয়। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৭ হাজার ৯ শ” হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সুত্রমতে লক্ষমাত্রার অতিরিক্ত দেড় হাজার হেক্টর জমিতে এবার আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা।
উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের হাতুড় গ্রামের কৃষক আমির হামজা, খাজুর ইউনিয়নের ল²ণপুর গ্রামের কৃষক শ্রীচরন মন্ডল, উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার, সুলতানপুর গ্রামের কৃষক, দেলোয়ার সরদার ও স্বপন সরদার জানান, সারের মুল্য বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিসহ মৌসুমের মাঝ পথে কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন চাষিরা আতংকিত হয়ে পড়ে। তবে ধানের উৎপাদন এবং হাট বাজারে আশানুরুপ ধানের মুল্য পাওয়ায় খুশি তারা। চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষে কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রণোদনা হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামুল্যে সার বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়।
ফলে সকল প্রতিক‚লতার অবসান ঘটিয়ে উপজেলার কৃষক তাদের উৎপাদনকৃত সোনালী ফসল আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছে। মৌসুমের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে আমন ধান চাষে কৃষকরা অনেকাংশেই সফল হয়েছে। উপজেলার ১০ ইউনিয়নে পুরো দমে উৎসবমুখোর পরিবেশে আমন ধানকাটা ও মাড়াই কাজে ব্যাস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নবান্ন উৎসবের আমেজ বইছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। নতুন ধান ঘরে উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম বাংলার পল্লী গৃহবধুদের মধ্যে রকমারি পিঠা বানানোর ধুম পড়ে গেছে।
এখন গ্রাম অঞ্চলের পরিবার গুলোর শিশু থেকে বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধারা ঋতুরাজ হেমন্তের সকালে নতুন ধানের চালের আটায় তৈরী গরম গরম ধুপিপিঠার সাদ ও চোখে মুখে ভাপ নিতে আধির আগ্রহে বসে থাকছে উনুনের পাশে। চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলনের হয়েছে দাবী করে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোমরেজ আলী জানান, এ মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার ৯শ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এর অতিরিক্ত জমিতে কৃষকরা আমন ধান চাষ করছে।