আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ আদমদীঘির সান্তাহার সাইলোর ভারপ্রাপ্ত সুপারের অনিয়ম, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে ক্যাজুয়াল কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসুচী পাল করেছেন। গতকাল সোমবার ( ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সান্তাহার সাইলোর প্রধান ফটকের সামনে ভুক্তভোগির সাইলোর সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মচারীরা এই কর্মসুচী পালন করেন। ফলে সাইলোতে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজসহ সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
মানববন্ধন কর্মসুচী পালন কালে কর্মকর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাজিদ হোসেন। তিনি বলেন সাইলো সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরীর অধিনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সকল ধরণের বৈষম্য অনিয়ম, দমন, পীড়ন, মজুরী কম দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি আরো জানান, সুপার নিজের পছন্দের ঠিকাদার না পাওয়ার কারণে লেবার হ্যান্ডলিং ঠিকাদার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার কারণে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বর্তমানে কোনো হ্যান্ডলিং ঠিকাদার না থাকায় মাষ্টারোলের শ্রমিকদের দৈনিক মাত্র ১৭৫টাকার মজুরীতে কাজ করানো হচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানসহ তাদের দাবী মেনে নেয়ার আহবান জানান এবং সাইলোর ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিভিন্ন অনিয়ম সরজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসুচী দেয়ার ঘোষনা দেন তিনি। পরে বিক্ষুদ্ধ কর্মচারীরা সাইলোর অপর গেটের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে সুপারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাধা প্রদান করা হয়। এসময় বিক্ষুদ্ধ শতাধিক কর্মচারী সুপারের কার্যালয়ে কথা বলার জন্য প্রবেশ করতে গেলে বাধা প্রদান করা হলে সেখানে চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সুপারকে তার কার্যালয়ে প্রায় তিনঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন এবং শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেন। এ ব্যাপারে সাইলোর ভারপ্রাপ্ত সুপার (অধীক্ষক) শাহরিয়ার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরীর সাথে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি না হয়ে অসৌজন্য আচরন করে অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।