এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাঁশবাহী ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে র ঘটনা ঘটেছে। এতে মোটরসাইকেল’র আরোহী ২ বন্ধু নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো নাহিদ হাসান ইমন (২০) ও আরিফুল ইসলাম রাতুল (১৮)।
সোমবার ভোর রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়াস্থ বিওসির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর সুধারামের উত্তর মাছিমপুর দানা মিয়ার বাজার এলাকার স্বর্ণবাড়ির মোঃ ইউসুফের পুত্র মোঃ নাহিদ হাসান ইমন ও একই উপজেলার সান্তসিতা পূর্ব এজবালিয়ার আবদুর রবের পুত্র আরিফুল ইসলাম রাতুল রবিবার রাতে কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
ভোর ৪ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়াস্থ বিওসির মোড় এলাকায় পৌঁছার পর বিপরীত দিক থেকে আসা বাঁশবাহী ট্রাক (নং- নেত্রকোনা-ট-১১-০০৪৮) এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী নাহিদ হাসান ইমন ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং আরিফুল ইসলাম রাতুল গুরুত্বর আহত হয়। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ইমনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফুল ইসলাম রাতুলকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে রাতুল মারা যায়। নিহত নাহিদ হাসান ইমনের মামা জামাল উদ্দিন জানান, আমার ভাগিনা ইমন ও তার বন্ধু রাতুল সহ এলাকার ৬ জন ছেলে মিলে ৩টি মোটরসাইকেল নিয়ে গত ৫ জুলাই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়।
কক্সবাজারে বেড়ানো শেষে রবিবার রাত দেড় টার দিকে কক্সবাজার থেকে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। আমার ভাগিনা ইমন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিলো। তার বন্ধু রাতুল মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। ভোরের দিকে তাদের মোটরসাইকেলটি সাতকানিয়ার বিওসির মোড় এলাকায় পৌঁছার পর কক্সবাজারমুখী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ইমন ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং তার বন্ধু রাতুল আহত হয়।
পরে সোমবার সকালে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতুলও মারা যায়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ ইরফান জানান, নোয়াখালীর সুধারামের ইমন ও তার বন্ধু রাতুল রবিবার রাতে মোটরসাইকেল যোগে কক্সবাজার থেকে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। সাতকানিয়ার বিওসির মোড় এলাকায় পৌঁছার পর বিপরীত দিক থেকে আসা বাঁশবাহী একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ইমন ঘটনাস্থলে মারা যায়। গুরত্বর আহত অবস্থায় রাতুলকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করি।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতুল সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে মারা যায়। ইমনের লাশ আমরা স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেছি। আর রাতুলের লাশ পাঁচলাইশ থানা থেকে স্বজনদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে।
দূর্ঘটনায় নিহত নাহিদ হাসান ইমনের মামা জামাল উদ্দিন বাদি হয়ে ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।