এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সর্বোত্র বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা সহাবস্থানে থেকে এলাকা, রাস্তা-ঘাট সহ সব স্থানে-ই অবস্থান করে যেতে দেখা যাচ্ছে।
কোথাও নেই কোনো সন্ত্রাস- বিশৃঙ্খলা সহ কোনো ধরনের হিংসাত্মক মনোভাবীয় কর্মকাণ্ড। অথচ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে! তবে, এ ও সত্য যে, আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পলায়নের পর অনেক নেতা-কর্মীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো। তবে, দু’চারদিন গা ঢেকে থাকার পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে স্ব স্ব এলাকায় ফিরে এসে তারা যথারীতি অবস্থান করে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে মীরসরাই উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশে প্রশাসনিক ভাবে সব রকম ব্যবস্থা এবং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে স্ব স্ব রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের নের্তৃবৃন্দের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। অন্যদিকে মীরসরাই উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নব গঠিত কমিটিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ থেকে।এখানে পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক করা হয়েছে মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবু অনির্বাণ চৌধুরী রাজিব কে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বাবু মোহন দে কে। তাদের দু’জন কে রাজনৈতিক পরিচয় (বিএনপি-আওয়ামীলীগ) ভুলে একসাথে থেকে কাজ করে যেতে ও দেখা যাচ্ছে।
অন্যান্য দিনের মতো গতকাল ও তাদের দু’জন কে এক সাথে দেখা গেছে বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারে।
এ দিকে গতকাল বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারের জামালপুর মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত ‘ধান সিঁড়ি হোটেল’ এ হিন্দু সম্প্রদায়ের নের্তৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠকে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের কে দেখা যায়। এ সময় সেখানে সাবেক ছাত্র লীগ নেতা ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ জিপসন এবং নের্তৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীরা ও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সেখানে ছাত্রদল নেতা ও মীরসরাই পুজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব মোহন দে ও উপস্থিত ছিলেন। পরে পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক বাবু অনির্বাণ চৌধুরী রাজিব ও আসেন বলে জানা গেছে।
এ সময় সেখানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাবেক মীরসরাই প্রতিনিধি সাংবাদিক নুরুল আলম ও উপস্থিত ছিলেন।
সুতরাং, বলা চলে-মীরসরাই উপজেলার সর্বোত্র বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সহাবস্থানে রয়েছে। এবং এ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী্যা ও পিছিয়ে নেই।
আর সেই কারণে অনেক কে বলতে শোনা যায়/যাচ্ছে- বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হিংসাত্মক মনোভাবের বশবর্তী হয়ে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হলে ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্ভয়ে এলাকায় অবস্থান করে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত (গত দুই মাস) মীরসরাই উপজেলার কোথাও আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীরা হিংসাত্মক মনোভাবের কারণে কোনো হামলা বা কোনো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খবর পাওয়া যায়নি।
ছ অবস্থা চলমান থাকলে মীরসরাই উপজেলার অতিত রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টে যাবে বলে ও অনেকেই তাদের মতামতে তুলে ধরেছেন।
কারণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি’র এমন কোনো নেতা-কর্মীরা বাদ ছিলো না যে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় আক্রান্ত হয়নি। এবং মিথ্যে মামলা দায়ের এর মাধ্যমে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার-হয়রানির ‘খড়গ’ চালানো হয়নি।
এমন কি বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের এলাকা ছাড়া করা হয়নি। আর তা থেকে বর্তমান সময়ে মীরসরাই উপজেলার সর্বোত্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্ভয়ে সহাবস্থানে থেকে থাকতে পারাটা ইতিহাসে ফাইল বন্ধী হয়ে থাকবে আগামী দিন গুলোতে।